ভারতের সম্পর্কের বিষয় চিন্তা না করে নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন এবং জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভাকে জানান, নয়া দিল্লিতে ক্ষমতার পালাবদলে দুই নিকট প্রতিবেশীর সম্পর্কে ছেদ পড়বে না বরং তা জোরদার হবে। সফরকালে সরকারকে এ আশ্বাস দিয়ে গেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। সোমবার মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৈঠকে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের বিষয়টিকে ‘বিশেষ গুরুত্ব’ দেয়া হয়। মন্ত্রীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা ঠিকমতে কাজ চালিয়ে যান। পাঁচ বছরের আগে এ সরকারকে কেউ ক্ষমতা থেকে নামাতে পারবে না।
নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক এক মন্ত্রী বলেন, “মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মোদি সরকারের সঙ্গে বিএনপি যতই সম্পর্ক করতে চাইবে তা আর পাবে না। কারণ ভারতে যেকোনো সরকার ক্ষমতায় থাকুক তারা রাষ্ট্রপতিকে অনেক শ্রদ্ধা করে। সেই ভারতের রাষ্ট্রপতিকে খালেদা জিয়া অসম্মান করে আবার পরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে সরকারের বিরুদ্ধে নালিশ করেছেন। এ নালিশে কোনো কাজ হবে না।”
সূত্র জানায়, ভারতে ক্ষমতার পালাবদলকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে যে অস্বস্তি রয়েছে, সুষমা সেটা দূর করার ইঙ্গিত দিয়ে গেছেন বলে মন্ত্রিসভাকে আশ্বস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে উপস্থিত এক মন্ত্রী জানান, শুধু সীমান্ত নয়, তিস্তার সমস্যাও তাড়াতাড়ি মিটে যাবে। এ জন্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজি করানোর জোর চেষ্টা চালাচ্ছে ভারত সরকার।
তিনি বলেন, “৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে খালেদা জিয়ার অভিযোগকে সুষমা স্বরাজ ভালোভাবে নেননি। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ মুহূর্তে মূল নিয়ামক হওয়ায় তাদের পরামর্শে দুই দেশের সম্পর্কে ‘স্থিতাবস্থা’ বজায় রাখাটাই শ্রেয় বিবেচনা করবে বিজেপি সরকার।

