মাগুরানিউজ.কমঃ

গত কয়েকদিন ধরে প্রচণ্ড কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে সর্বত্র। সারা দিনেও সূর্যের দেখা মিলছে না। সন্ধ্যা নামতেই বৃষ্টির মতো কুয়াশা পড়ছে। রাতে প্রচণ্ড কুয়াশায় ২০ গজ সামনের কোনো বস্তু ঠিকমতো দেখা যাচ্ছে না। তারপরও ঝুঁকি নিয়ে চালকরা যাত্রী ও পণ্যবাহী পরিবহণ চালাচ্ছেন। এতে ব্যস্ত এক লেনের মহাসড়কে প্রতিনিয়ত ছোট বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।
এক লেনের ব্যস্ত ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে যাত্রী ও পণ্যবাহী পরিবহণ চলাচল করায় সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে গেছে।
গত এক সপ্তাহে এই সড়কের মাগুরা অংশে সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১০ জন নিহত এবং ৫০ জন আহত হয়েছেন। ট্রাফিক আইনে ঘন কুয়াশায় মহাসড়কে যান চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও তা কেউ মানছেন না। চালকদের দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় দুর্ঘটনা বাড়ছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, মহাসড়কে দিনের বেলায় হেড লাইট জ্বালিয়ে হর্ন চেপে যানবাহন চলাচল করছে। অত্যন্ত ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করায় গন্তব্যে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে। একান্ত বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কেউ যানবাহনে উঠছেন না।
এ দিকে প্রচণ্ড কুয়াশার কারণে মহাসড়কের মাগুরা অংশের আড়পাড়া, জাগলা, কালিনগর, কুছুন্দি, বেলনগর ও ওয়াপদা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৫০ জনেরও বেশি। এ সব দুর্ঘটনার অধিকাংশই বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ। মহাসড়কে নসিমন-করিমন চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও তা কেউ মানছেন না। কুয়াশার মধ্যে নসিমন উল্টে ও সংঘর্ষে ৩ জন মারা গেছেন।
মাগুরা শহরের ট্রাকচালক জনাব আলী বলেন, কুয়াশার মধ্যে গাড়ি চালানো বিপদজ্জনক জেনেও তারা নিরুপায় হয়ে গাড়ি চালাচ্ছেন। এর সঙ্গে তাদের রুটি রুজি জড়িত।
শহরের ভায়না এলাকার কাঁচামাল ব্যবসায়ী সাইফুল জানান, তিনি ঢাকার কারওয়ান বাজারে সবজির চালান করেন। নিয়মিত সবজি দিতে না পারলে মহাজন তার কাছ থেকে আর সবজি নেবেন না। তাই যেকোনো অবস্থায় তারা সবজি নিয়ে ট্রাকে ওঠেন।
ঢাকা থেকে খুলনাগামী যাত্রীবাহী ঈগল পরিবহণের চালক আব্দুল হাকিম বলেন, কুয়াশার মধ্যে কমলা রঙের হ্যালোজেন লাইট জ্বালিয়ে তারা কম গতিতে সতর্ক হয়ে চলাচল করছেন।
মাগুরা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এসআই অজিয়ার রহমান জানান, ঘন কুয়াশায় মহাসড়কে যানবাহন চলাচল অত্যন্ত বিপদজ্জনক। কম জনবল নিয়ে হলেও যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য রাতদিন কাজ করে যাচ্ছেন।
হানিফ পরিবহনের সুপারভাইজার ফয়সাল বলেন, রাতে যাত্রী খুব কম এবং সময় লেগে যাচ্ছে অনেক বেশি।



