সাকিব হওয়া হলোনা মাগুরার সেই ক্রিকেটার তন্ময়ের

মাগুরানিউজ.কমঃ 

TONMOY-1424593992ইসতিয়াক মাহমুদ তন্ময় সাকিব হতে চেয়েছিলেন। ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেট পাগল ছেলে। মাগুরা শহরের এ-মাঠ ও-মাঠে দাপিয়ে খেলেছেন ক্রিকেট। কিন্তু ইসতিয়াক মাহমুদ তন্ময়ের পক্ষে সেটা আর কখনোই সম্ভব নয়। কারণ দুরারোগ্য ক্যান্সারের কাছে পরাজিত হয়ে শনিবার রাতে চলে গেছেন না ফেরার দেশে।  

একটি পা হারানোর পর  প্রাণঘাতী ক্যান্সার হামলে পড়ে তন্ময়ের জীবনের ওপরও। সাকিব হতে না পারলেও  মাগুরা জেলা ক্রিকেট দলের নিয়মিত এই তরুণ  খেলোয়াড় ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়তে পাশে পেয়েছিলেন  বাংলাদেশের জাতীয় দলের প্রাক্তন অধিনায়ক এবং বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে।

সাকিবের বাড়িও মাগুরায়। নিজের শহরের তন্ময়ের মতো উঠতি   ‘সাকিবদের’ জন্য তার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হবেই। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের কাছে তাই জাতীয় দলের এই ক্রিকেটারের আহ্বান ছিল, ‘তন্ময় বাঁচতে চায়। আসুন, ওকে বাঁচিয়ে রাখি। ওর অবস্থা এখন খুবই খারাপ বলে জানি। তার পক্ষে আর কোনো দিন খেলা সম্ভব না হলেও ছেলেটার জীবন তো বাঁচানো যায়।

মানুষ মানুষের জন্যই। আমরা সবাই মিলে যদি চেষ্টা করি, ক্যান্সারের বিরুদ্ধে ঠিকই জিতে যাবে তন্ময়।’

ওই সময় টাকার অঙ্ক না বললেও তন্ময়ের জন্য নিজেও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবেন বলে জানিয়েছিলেন সাকিব। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি নিজেও ওকে সাহায্য করতে চাই। কত টাকা দেব, সেটা বলছি না। তবে আমি ওর জন্য কিছু করব।’

সাকিবের আহ্বান ও পত্র-পত্রিকায় তন্ময়ের কথা পড়ে অনেকেই এই ক্রিকেটারকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে পরাজিত হন তন্ময়। শনিবার গভীর রাতে মাগুরা সদরের বাসায় সে মারা যায়। রোববার বিকেলে জানাজা শেষে স্থানীয় পৌর কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

তন্ময়ের বাবা আবদুল ওহাব অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা। মা নাসরিন সুলতানা স্কুলশিক্ষিকা। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে তন্ময় মেজো। স্নাতক পড়তো ঢাকা কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে।

২০১১ সালে ক্যান্সার ধরা পড়ার পর চিকিৎসার জন্য ভারতের মুম্বাইতে নিয়ে যাওয়া হয় তন্ময়কে। এরপর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে হাঁটু থেকে কেটে ফেলা হয় তার একটি পা। তার পরও আশার কথা, ভারতের চিকিৎসকরা বলেছেন, সুষ্ঠু চিকিৎসা পেলে বেঁচেও যেতে পারেন তন্ময়। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও বাঁচানো গেল না তাকে।

বাবা আবদুল ওহাব কান্না জড়িত কণ্ঠে জানান, সন্তানের চিকিৎসার খরচ বহন করতে তিনি এখন প্রায় সর্বস্বান্ত। তারপরও সন্তান বেঁচে থাকলে তিনি শান্তনা পেতেন।৭০ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে চিকিৎসায়। জমিজমা বিক্রি করেছেন, খরচ করে ফেলেছেন পেনশনের পুরো টাকাও।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

July ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Jun    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

July ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Jun    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
%d bloggers like this: