মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরার গ্রামীন গৃহিণীদের পুষ্টি ও উপার্জনের অকৃত্রিম বন্ধু দেশীয় মোরগ-মুরগী। গ্রামে-গঞ্জে এখন আগের মত চোখে পড়ে না। যৎসামান্য গৃহস্থীর বাড়িতে মোরগ-মুরগী পালিত হয়। তা অধিক মূল্যে বিক্রি হয়। বর্তমানে দেশীয় মোরগ-মুরগী অনেকটা বিলুপ্তির পথে।
একসময় মাগুরার প্রতিটি গ্রামে গৃহস্থীর ঘরে ধানের গোলার নিচে আলাদা টঙঘর নির্মাণ করে মোরগ-মুরগীর জন্য ঘর তৈরি করা হত। প্রত্যেকটি পরিবার অন্যান্য পশু পালনের পাশাপাশি দেশীয় মোরগ-মুরগী পালন করে গৃহবধূরা একটি বিশাল অংকের রোজগার করত। এখন সে দৃশ্য আর চোখে পড়ে না।
আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিভিন্ন এলাকায় এখন মুরগীর ফার্ম গড়ে উঠায় মানুষ অনায়াসে পেয়ে যাচ্ছে মোরগ-মুরগী। এ ব্রয়লার মুরগীগুলো অতিরিক্ত খাবার খেয়ে খুব তাড়াতাড়ি বড় হওয়ায় এ মুরগীর ফার্মের দিকে ঝুঁকেছে অনেক যুবক এবং অনেকেই সফলও হয়েছেন।
স্থানীয় মুরুব্বীদের মতে দেশীয় মোরগ- মুরগীগুলো ২০ থেকে ৩০টি ডিম দেয়। এ ডিমগুলো সূর্য না দেখে এমন একটি জায়গায় জমায়েত করে রাখা হয়। পরবর্তীতে মুরগীর ডিম দেয়া শেষ হলে একটি খাচায় করে বাচ্চা ফুটানোর জন্য স্থান করে দেয়া হয়। সেখানে মুরগীটি তা দিয়ে ২০ থেকে ২৫ দিন পর ডিম থেকে বাচ্চা ফুটিয়ে তাদের বংশ বিস্তার করে। এমনকি এ সকল মুরগী দিয়ে হাঁসের বাচ্চাও ফুটানো হত বলে তারা জানান। ফলে এ বাচ্চাগুলো গৃহস্থের লালন-পালনের মধ্য দিয়ে আসতে আসতে বড় হতে থাকে। সময় লাগে অনেক। ফলে এ কষ্ট বর্তমান সমাজের লোকজন করতে চায় না। তাই তারা ফার্মের তথা ব্রয়লার মুরগী ক্রয়ের জন্য তাদের চাহিদা মিটিয়ে থাকে। এভাবে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় মোরগ-মুরগী।
এক সময় হয়তো দেশীয় মোরগ-মুরগী আষাঢ়ের গল্পের মত শুনবে আগামী প্রজন্ম। তাই এ দেশীয় মোরগ-মুরগীর স্বাদ পেতে এবং ধরে রাখতে সরকারিভাবে দেশীয় মোরগ-মুরগী লালন-পালনের উপর পদক্ষেপ গ্রহণ করার দাবী জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। অন্যথায় এ সুস্বাদু দেশীয় মোরগ-মুরগী আমাদের দেশ ও সমাজ থেকে এক সময় হারিয়ে যাবে।


