মাগুরানিউজ.কমঃ
আদালতের নির্দেশনায় সড়ক ও গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার করে দিতে বাধ্য হলো সীমাখালি ব্রিজসহ ভেঙ্গে পড়া অতিরিক্ত পাথরবাহি ট্রাকের মালিকপক্ষ।
মাগুরা জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমান গত ৩০ এপ্রিল অভিযুক্ত ট্রাক মালিকদের প্রতি ওই নির্দেশনা দেন।
অন্যদিকে এই নির্দেশনায় গ্রামীণ অবকাঠামো এবং সড়কটির সংস্কারকাজ সম্পন্ন হওয়ায় এলাকাবাসির পক্ষ থেকে আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি অতিরিক্ত পাথর বোঝায় করে ১০ চাকাবিশিষ্ট দুটি ট্রাক মাগুরা-যশোর সড়কের সীমাখালি ব্রিজ অতিক্রম করার সময় ব্রিজসহ ভেঙ্গে পড়ে। এ ঘটনার পর মাগুরা সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে ওইস্থানে দুইলেন বিশিষ্ট বেইলি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। দীঘ সাড়ে ৪ মাস পর ২২ জুন রোজার ঈদকে সামনে রেখে ব্রিজটি চালু করা হয়।
মাগুরার সীমাখালি ব্রিজটি ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যশোর, খুলনা, সাতক্ষিরা, বাগেরহাট এবং পার্শ্ববর্তি রাষ্ট্র ভারতের প্রবেশপথ বেনাপোলের যোগাযোগের সংক্ষিপ্ত ও অন্যতম গুরুত্পূর্ণ সংযোগ ব্রিজ। কিন্তু অতিরিক্ত পণ্য বোঝাই ট্রাক পারাপারের কারণে গুরুত্বপূর্ণ ওই ব্রিজটি ভেঙ্গে পড়ায় দীর্ঘ সাড়ে ৪ মাস ধরে ওই পথে চলাচলকারী বিভিন্ন পরিবহণ বিকল্প পথ হিসেবে মাগুরার সীমাখালি-পিয়ারপুর গ্রামীণ সড়কটি ব্যবহার করতে বাধ্য হয়। কিন্তু সীমাখালি থেকে থেকে পিয়ারপুর পর্যন্ত এলাকার গ্রামীণ রাস্তা ভারি যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় নিয়মিত ওইসব পরিবহন চলাচলে সীমাখালি-পিয়ারপুরের গ্রামীণ রাস্তাটিসহ স্থানীয় বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতির মুখে পড়ে।
এদিকে গুরুত্বপূর্ণ এই ব্রিজটি ভেঙ্গে পড়ার পর মাগুরা সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত ১০ চাকা বিশিষ্ট দুটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট-২০-৩০৭০ ও ঢাকা মেট্রো-ট-২০-১৯৬৯) এবং একই সঙ্গে ব্রিজে ভেঙ্গে পড়া কাভার্ড ভ্যান (ঢাকা মেট্রো-অ-১১-৩৮৩৬) মালিকের বিরুদ্ধে ৯ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা দায়ের করা হয়। একই সাথে পুলিশ মালামালসহ পরিবহনগুলো জব্ধ করে। কিন্তু ট্রাক দুটি নিজেদের জিম্মায় নেওয়ার লক্ষ্যে মালিকপক্ষ পরিতোষ পাল ২২ ফেব্রুয়ারি আদালতে আবেদন করেন। কিন্তু মাগুরা জেলা জজ আদালতের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল আবেদনটি নামঞ্জুর করলে পরিবহন মালিক আদালতে রিভিশন মামলা দায়ের করেন বলে আদালত সূত্রে জানা যায়।
এদিকে ট্রাক মালিক মাগুরা সদর উপজেলার পয়ারি গ্রামের অধির পালের ছেলে পরিতোষ পালের দায়েরকৃত রিভিশন মামলাটি ৩০ এপ্রিল জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমানের আদালতে নিষ্পত্তি করা হয়।
এ সময় জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমান গুরুত্ব বিবেচনায় ট্রাক দুটি মালিকপক্ষের হেফাজতে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দানের পাশাপাশি সীমাখালি-পিয়ারপুর গ্রামীণ সড়ক মেরামত এবং গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কারের জন্য ট্রাক মালিকপক্ষের উপর শর্তারোপ করেন।
এদিকে জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমানের জনগুরুত্বপূর্ণ এমন আদেশে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
মাগুরা জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌসুলি কামাল হোসেন বলেন, বিজ্ঞ জেলা জজ আদালতের এই আদেশটি রাষ্ট্রের পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। আদেশটি যথাযথ ভাবে রিভিশনকারি ট্রাক মালিক পক্ষ পালন করায় ওই এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ সড়ক ও অবকাঠামো সংস্কার সম্ভব হয়েছে।
জেলা জজ আদালতের এই রায়ের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ অবকাঠামো ও সড়ক সংস্কার সম্ভব হওয়ায় স্থানীয় গ্রামবাসীরাও আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।


