অস্তিত্ব সংকটে শহর নবগঙ্গা

মাগুরানিউজ.কম: রাজীব মিত্র জয়- 

একসময়ের প্রবল স্রোতস্বিনী নবগঙ্গা, যার সাথে মাগুরাসহ এতদঞ্চলের মানুষের অনেক সুখ দুঃখের লোক গাঁথা জড়িত রয়েছে। এ নদীতেই অস্ট্রিচ ও গাজী নামে দুটি স্টিমার চলত। এছাড়াও চলাচল করত বড় বড় লঞ্চ। অথচ এখন শুষ্ক মৌসুমে নদীটি একেবারে শুকিয়ে যায়, জেগে ওঠে চর। আবার বর্ষায় নাব্যতার অভাবে অনেক স্থানে দুকূল প্লাবিত হয়।

অপরদিকে শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নবগঙ্গায় পুরাতন বাজারের পশু জবাইয়ের, শহরের আবর্জনা এবং নদী তীরবর্তী বাড়িগুলোর বিষাক্ত বর্জ্যে নবগঙ্গার পানি দূষিত হচ্ছে। প্রতিদিন শহরের পুরাতন বাজারে শতাধিক ছাগল ও গরু জবাই করা হয়। এই কসাইখানার পশুর বিষাক্ত বর্জ্য, নদী তীরবর্তী বাড়িগুলোর বর্জ্যে নবগঙ্গা পানি হচ্ছে দূষিত। নদী তীরবর্তী বাড়িগুলোর ড্রেন নদীতে লাগানো রয়েছে। এছাড়া পৌরসভার অনেক ড্রেনের পানি নদীতে ফেলা হচ্ছে। ফলে জীববৈচিত্র্যে বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

মাগুরার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দেয়া তথ্যানুযায়ী, একসময় মাগুরার প্রাণ নবগঙ্গা নদীর প্রস্থ ছিল ৩০০ মিটার। কিন্তু ধারাবাহিক দখলের শিকার হয়ে এটি এখন শীর্ণকায়। তীর দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে ওঠায় কোথাও কোথাও প্রস্থ নেমে এসেছে ২০-২৫ মিটারে। এতে শীর্ণ খালে পরিণত হওয়া নবগঙ্গায় পানি ধারণক্ষমতা কমে গেছে। এ অবস্থায় নদীটির অস্তিত্বই এখন হুমকির মুখে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২৩০ কিলোমিটর দীর্ঘ নবগঙ্গা নদীর উত্পত্তি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মাথাভাঙ্গা নদী থেকে। নদীটি মাগুরা শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার চিত্রা নদীতে গিয়ে মিশেছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, মাগুরা শহরের নতুন বাজার, পূর্বাশা সিনেমা হল, নিজনান্দুয়ালী গ্রাম ও সদর উপজেলার আলোকদিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় নদীটির উভয় তীরে গড়ে উঠেছে ছোট-বড় বহু স্থাপনা। জানা গেছে, স্থানীয় প্রভাবশালীরা ভূমি অফিসের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহায়তায় বিভিন্ন এলাকায় নদীর তীরসহ সংলগ্ন জমি ব্যক্তিগত নামে রেকর্ড করিয়ে নিয়েছে। পাশাপাশি শহরের বাসাবাড়ি, হোটেল রেস্তোরাঁ এমনকি নদীর পাড়ে অবস্থিত শহরের পুরাতন কাঁচাবাজার এবং কসাইপট্টির বর্জ্যসহ সব ধরনের ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে নবগঙ্গা নদীতে। সঙ্গে পয়োনিষ্কাশনের নালা তো রয়েছেই। বর্ষাকালে পানির প্রবাহ থাকায় ময়লা-আবর্জনা জমতে পারে না। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে পানি কমে গেলে দুই পাড়ে ময়লার স্তূপ জমে যায়। তখন মারাত্মক দুর্গন্ধ হয় বলে জানায় স্থানীয়রা।

স্থানীয় প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময় নদীটি প্রশস্ত ও খরস্রোতা ছিল। কিন্তু অবৈধভাবে দখল হয়ে যাওয়ার কারণেই বর্তমানে এ করুণ দশা হয়েছে। নদী দখল রোধ ও দখলদারদের অপসারণের পাশাপাশি তারা নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করারও দাবি জানান। এজন্য তারা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ পদক্ষেপ কামনা করেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মাগুরা পৌরসভার মেয়র খুরশীদ হায়দার টুটুল বলেন, শিগগিরই নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধসহ নবগঙ্গা নদীর পাড়ে শহর এলাকায় পার্ক এবং ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে কিছুটা হলেও নদীদূষণ রোধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তিনি। সেসঙ্গে নাগরিকদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান মেয়র।

নবগঙ্গার দূষণ রোধে কোনো পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাইলে পাউবো, মাগুরার নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ বলেন, নদীর নাব্যতা ফেরানোসহ দূষণ রোধে এটি পুনঃখননের জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন হলেই খননকাজ শুরু হবে। অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরিরও কাজ চলছে। তালিকা তৈরির কাজ সম্পন্ন করে জেলা প্রশাসনের কাছে জমা দেয়া হবে। এর পরই প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

September ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Aug    
 ১২৩৪৫৬
৭৮৯১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

September ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Aug    
 ১২৩৪৫৬
৭৮৯১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
%d bloggers like this: