মাগুরানিউজ.কম:
পোস্টার বিড়ম্বনায় মাগুরার শহীদ মুক্তিযাদ্ধারা। শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে মুক্তিযোদ্ধাদের খোদাই করা নামগুলি বিভিন্ন পোস্টারে ঢাকা পড়ে রয়েছে। মাগুরা শহরের প্রাণকেন্দ্র ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ভায়নার মোড়ে অবস্থিত স্মৃতিস্তম্ভটিতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নাম সাদা পাথরের ওপর কালো কালিতে খোদাই করে লেখা।
স্মৃতিস্তম্ভের চারপার্শ্বের চারটি প্রকোষ্ঠে মাগুরা জেলার চার উপজেলার শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচয় তুলে ধরিবার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ। অথচ পোস্টারে ঢাকা পড়ে বর্তমানে স্মৃতিস্তম্ভটিতে লিখিত মুক্তিযোদ্ধাদের নাম উদ্ধার করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পৌরসভা কর্তৃপক্ষ কতৃক পোস্টার লাগানো নিষিদ্ধ জানিয়ে একটি বোর্ড লাগিয়ে দিলেও সেই সতর্কবার্তা কোনো কাজেই লাগছেনা।
দেশে যত্রতত্র দেয়াললিখন ও পোস্টার লাগানোর ব্যাপারে নির্দিষ্ট নিয়ম ও আইন রয়েছেছে। কিন্তু শঙ্খ ঘোষের কবিতার মতো ‘মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে’। দেওয়ালেরও যে সৌন্দর্য থাকতে পারে, অন্য অনেক কিছুর মতো শহরবাসীকে তা বেমালুম ভুলিয়ে রাখা হয়েছে। বলা যায় পোস্টারের দাপটে শহরের অনেক দেওয়ালই আজ মলিন বা বিবর্ণ। বিভিন্ন কোচিং সেন্টার, অমুক দল, তমুক ভাইয়ের অভিনন্দন-জ্ঞাপন এমনই হরেক ধরনের পোস্টার।
যেইসব জায়গায় পোস্টার লাগানো নিষেধ, সেইসব জায়গার দেওয়ালে না হলেও আশেপাশে থাকা গাছ এবং বৈদ্যুতিক তারের খুঁটিতে পোস্টার বা ব্যানার সাঁটিয়ে দেওয়া হচ্ছে অবলীলায়।
অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, আইনের যথাযথ প্রয়োগ লক্ষ করা যাচ্ছে না। এই কারণেই কি যত্রতত্র দেয়াললিখন ও পোস্টার লাগাবার হিড়িক ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে? পরিবেশকে অপরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিকটু করার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ বা ভাষা আন্দোলনের মতো মহান ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনাসমূহও অবমূল্যায়িত হচ্ছে। তাই যত্রতত্র দেয়াললিখন ও পোস্টার লাগানো বন্ধে আইনে প্রয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। উপরন্তু যারা সমাজের কল্যাণ করবেন ভাবে প্রচারের নিমিত্ত যত্রতত্র পোস্টার লাগান কিংবা দেয়ালে লিখেন, তাদেরও এই ব্যাপারে সচেতন হবার প্রয়োজন রয়েছে। তাদের দায়িত্ব এইক্ষেত্রে আরো বেশি।
লেখক- আইনজীবী, সাংবাদিক ও উন্নয়নকর্মী।


