মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরাতে বিউটি-মুক্তাদের অন্যরকম ফাঁদ, ‘টাকা দাও নয় বিয়ে কর’। দিতে বলছি শুনছো না? টাকা দাও, নয় বিয়ে কর, তাইলে আর কারো কাছে টাকা চাবো না, ঘরে বসেই খাবো, তুমি খাওয়াবা।
মাগুরাতে ঈদ ঘিরে বেপরোয়া হিজড়ারা। রীতিমতো কোমর বেঁধে নেমেছে তারা। কেউ-ই ছাড় পাচ্ছেন না তাদের থেকে। অন্য সময় কোনোভাবে বুঝিয়ে ওদের থেকে কেটে পড়া যেত। এখন সেই উপায় নেই, জাপটে ধরে রাখে চার-পাঁচ জনের গ্রুপ। টাকা না দিলে তাদের নাকি বিয়ে করতে হবে।
মাগুরা শহরের আতর আলী সড়কে দেখা মিলে হিজড়াদের একটি গ্রুপ। গ্রুপটি রাসেল নামে এক যুবককে ঘিরে বলছে, ‘দাও, টাকা দাও। দিতে বলছি শুনছো না? অদ্ভুত হাততালি দিয়ে, এই… দেনা রে…।
এই যুবক বেকায়দায় পড়ে যান। কোনো উপায় না পেয়ে ১০ টাকা বের করেন তিনি। ১০ টাকায় রক্ষা হয়নি, শেষে ১০০ টাকায় এবারের মতো ছাড়া পান তিনি।
রাসেল বলেন, ‘মাঝে মাঝে মনে হয় মরে যাই, কেউ কোনো অপরাধের প্রতিবাদ করেন না। ১২০ টাকা নিয়ে বাসা থেকে বের হলাম। রোজা রেখেছি, ১০০ টাকা ইফতার খরচ রেখেছি, সেটা নিয়ে গেল।’
‘এই দেনা রে’ সম্বোধন ও অদ্ভুত হাততালি, অশালীন আচরণ হিজড়াদের স্বভাবজাত। চার-পাঁচজন করে দলে বিভক্ত হয়ে হানা দিচ্ছে তারা। দাবি করা চাঁদা না দিয়ে ছাড় নেই কারোর।
ঈদ ঘিরে হিজড়াদের বেপরোয়া চাঁদাবাজি যেন লাগাম ছেড়েছে। বাসা-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস সব জায়গায় চলছে তাদের জোর-জবরদস্তি। চাহিদার থেকে কম দিলেই অশালীন কথা, দৃষ্টিকটু অঙ্গভঙ্গির সঙ্গে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানেগুলোতে হাত দিতে শুরু করে হিজড়ারা। এতে চক্ষু লজ্জায় টাকা দিয়ে বিদায় করতে বাধ্য হন সাধারণ মানুষ।
বাজারের সামনে দেখা গেলো একটি ফলের দোকান একদল হিজরা ঘিরে রেখেছে। তাদের চাহিদা ঈদের বকশিসসহ একশ টাকা, দোকানদার ৫০ টাকা দিলে হিজড়ারা রাস্তায় ছুড়ে মারলো টাকা। দোকানদার বাধ্য হয়ে রাস্তা থেকে টাকা তুলে নিয়ে একশ টাকা দিয়েই বিদায় করলো হিজড়াদের। ১০০ টাকার সঙ্গে দোকানের দুটি আমও হাতে করে নিয়ে গেল হিজড়ারা।


