মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরাসহ বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় পানকে বলা হয় ‘সবুজ সোনা’। চিরসবুজ পানগাছ সুদুর অতীত থেকে বাংলাদেশের সমাজ, সংস্কৃতি ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। পূর্ব মালয়েশিয়ায় পানের জন্ম হলেও এ দেশের বিভিন্ন জেলায় পান এমনভাবে চাষ হচ্ছে যে পানকে এখন নিজেদের ফসল বলেই মনে হয়।
লাভজনক হওয়ায় মাগুরায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পানের বরজ গড়ে উঠেছে। ফলে জেলায় পান চাষ সম্প্রসারিত হচ্ছে। কৃষক পান চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে। উৎপাদিত পান ঢাকা, বরিশালসহ বিভিন্ন জেলায় চালান হচ্ছে।
জানা গেছে , জেলার আলীধানী, শিবরামপুর শ্রীকুণ্ঠি, ধরলা, শত্রুজিৎপুর, পয়ারী, পথের হাট, শিয়ালজোড়, বাটাজোড়, বেরইল পলিতা, গোয়াল বাথান, মনিরামপুর, পুটিয়া, শালিখার গঙ্গরামপুর , শ্রীপুরের বরিশাট প্রভৃতি গ্রামে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পানের বরজ গড়ে উঠেছে। জেলায় প্রায় ২ হাজার পানের বরজ গড়ে উঠেছে।
অতীতে পান চাষ শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন অধিকাংশ পানচাষি মুসলমান। পান বরোজ বা ছায়াঘরের মধ্যে চাষ করা হয়, তাই পানচাষিদের বারুজীবী বা বারুই বলে। পানচাষ লাভজনক ফসল হওয়ায় দিন দিন এর চাষ ও উৎপাদন বাড়ছে।
এ দেশে পান চাষ ব্যবস্থাপনা এখনো অনেকটা সনাতন ধাঁচে চলছে। সার ব্যবস্থাপনায় কিছুটা পরিবর্তন হলেও পান চাষিরা এখনো উত্তরাধিকার সূত্রে লব্ধ জ্ঞান প্রয়োগ করেই পান চাষ করে যাচ্ছে। এখনো পানের জমি তৈরি করতে চাষিরা কোদাল ব্যবহার করেন, বরোজ নির্মাণে স্থানীয় বনজ দ্রব্য ব্যবহার করেন, পানের লতা বাঁধতে বনজ লতা বা আঁশ ব্যবহার করেন, পোকা দমনে বরোজে ধোঁয়া দেন। এ ছাড়া পান বরোজকে ঘিরে নানা রকম সামাজিক ও ধর্মীয় সংস্কার মানেন।


