মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরায় গ্রেফতার আতঙ্কে বাড়ি ছাড়া কমপক্ষে ৩০ পরিবার। উপস্থিত গ্রামবাসী জানান, মামলা আতঙ্কে কমপক্ষে ৩০টি পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। কোন কোন বাড়িতে নারী ও শিশু সদস্যরা পর্যন্ত থাকতে পারছেন না ভয়ে।
শেখ সুজন নামে এক বাস চালক খুন হবার ঘঁটনার জের ধরে মামলায় গণ আসামী হবার আতঙ্কে বাড়ি ছেড়েছে মাগুরা সদর উপজেলার মালিক গ্রামের কমপক্ষে ৩০ পরিবারের সদস্যরা।
এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, ৫ বছরে এলাকায় ৪টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এসব খুনের ঘটনায় এলাকার অনেক পরিবার মামলায় পড়ে সর্বশান্ত হয়েছে। ২০১৩ সালে এলাকায় একই সাথে ৩টি খুনের ঘটনা ঘটে। সেই ট্রিপল মার্ডারের সময় গ্রামের অর্ধশতাধিক পরিবারের বাড়িঘর লুটপাট হয়। প্রায় ২ বছর এই ৩ খুনের মামলার গণআসামীরা এলাকায় ফিরতে পারেনি। গত বছর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় সবাই বাড়ি ফিরেছে।
এরই মধ্যে সুজন শেখ নামে একজন বাস চালক মালিক গ্রাম বাজারে খুন হয়। মামলায় গণ আসামী হবার আতঙ্কে বাড়ি ছেড়েছে গ্রামের কমপক্ষে ৩০ পরিবারের সদস্যরা।
মাগুরা সদর থানার তদন্ত কর্মকর্তা হোসেন আল মাহবুব জানান, ৮ জনকে আসামী করে হত্যা মামলা হয়েছে। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমরা এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করেছি যে আতঙ্কিত হবার কিছু নেই।
মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম জানান, মালিক গ্রামে হামলা ও লুটপাটের আশংকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যাতে কোন ধরনের অঘটন না ঘটে ।
উল্লেখ্য, গত ৩ জুন সন্ধ্যায় মাগুরা সদর উপজেলার মালিক গ্রামে দুর্বত্তরা বাস চালক শেখ সুজনকে মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। প্রথমে মাগুরা ২৫০ শর্য্যা হাসপাতালে, ফরিদপুর মেডিকেলে এবং পরে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়। সেখানে সোমবার ভোরে তার মৃত্যু হয়। নিহত শেখ সুজনের বাড়ি মাগুরার পারলা গ্রামে। এই ঘটনায় শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।


