শ্রীপুরে এসিল্যান্ড ও শিক্ষা কর্মকর্তাকে আদালতে শোকজ। Magura news

মহসিন মোল্যা, বিশেষ প্রতিবেদক-

শ্রীপুর উপজেলায় দোসতিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন জমি আদালতের আদেশ অমান্য করে অবৈধভাবে সীমানা নির্ধারন চেষ্টার অভিযোগে শ্রীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শ্যামানন্দ কুন্ডু ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেনকে শোকজ করেছে আদালত। মাগুরা জজ আদালতের (ভারপ্রাপ্ত) সিনিয়র সহকারী বিচারক রোমনা রোজী বুধবার বিকেলে এ আদেশ প্রদান করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, রায়ের আলোকে আদালতের আদেশ আমান্য করে, অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কেন জারি হবে না এ বিষয়ে জানতে এসিল্যান্ড ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে আগামী ৩ দিনের মধ্যে আদালতে স্বশরীরে হাজির হয়ে কারণ দর্শনোর নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। মাগুরা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের সেরেস্তাদার সুষমা দত্ত আজকের পত্রিকাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মামলার বাদী মো.আব্দুল হালিম নামে এক ব্যক্তি মাগুরার সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে গত ১৯ জানুয়ারি বুধবার মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শ্যামানন্দ কুন্ডু ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন, দোসতিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিল্লুর রহমান ও সভাপতি লাভলু মোল্লাকে বিবাদী করা হয়।

জানা যায়, শর্ত সাব্যস্ত পূর্বক ২০১৪ সালে দোসতিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন ২৪ শতাংশ জমি নিয়ে মাগুরা জজ আদালতে মামলা হয়। আর এস ৩ খতিয়ান অনুযায়ী ৯২৯ দাগের ৩৩ শতাংশ জমির মালিক বিদ্যালয়টি। সেখানে ভুলক্রমে ৪৩ শতাংশ ম্যাপ হওয়ায় জোরপূর্বক জমিটি দখলের অভিযোগ করেছে বাদী নিজেই। গত ২০১৬ সালে এ জমি মামলাটি নিষ্পত্তি ও বাদীর পক্ষেই রায় হয়। সেখানে আর এস ৩ খতিয়ানে বাংলাদেশ সরকারে পক্ষে শিক্ষা বিভাগের নামে রেকর্ড হয় ৩৩ শতাংশ জমি। উক্ত জমি যাতে বিবাদীরা অবৈধভাবে দখল করতে না পারে এই লক্ষ্যে বাদী আদালতে পুনরায় মামলা করে। এখনো আদালতে মামলাটি চলমান। মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষের স্থিতিবস্থায় থাকার আদেশ প্রদান করেন আদালত। কিন্তু আদালতের রায়ের এ আদেশ অমান্য করে গত ১৭ জানুয়ারি সোমবার দুপুরে উপজেলা কমিশনার ভূমি কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা উপস্থিত হয়ে সিমানা নির্ধারন করেন।

এলাকাবাসি জানান, জমিটি বাদীর বাবা-দাদারা বিদ্যালয়কে অনেক আগেই দান করে গেছেন। যার দলিল বিদ্যালয়ের নামে। ম্যাপ অনুযায়ী বিদ্যালয়ের জমি ৪৩ শতাংশ। বিদ্যালয়ের জমি অনুযায়ী সিমানা নির্ধারন করা হয়েছে।

মামলার বাদী মো. আব্দুল হালিম বলেন, জমিটি আমাদের কেনা সম্পত্তি। সরকারের সাথে এ জমি সংক্রান্ত আদালতে মামলা হয়। আদালত মামলার রায় আমাদের পক্ষে দেয়। কিন্তু জমিটি বারবার অবৈধ দখলের চেষ্টা চলছে। গত ১৭ জানুয়ারি সোমবার এসিল্যান্ড ও শিক্ষা কর্মকর্তা স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে সিমানা নির্ধারন করেন। এসিল্যান্ড আমাকে মোবাইলে দেখে নেওয়ার হুমকিও দেন। এমনকি আমাকে ১৫ মিনিটের মধ্যে তাঁর অফিসে যেতে বলেন। ভয়ে যাইনি, তবুও বারবার ফোন করেছেন। একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন আচারণে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি। বৃহস্পতিবার সকালে মিস্ত্রী আমাকে ফোন করে দেওয়াল নির্মাণ কাজের বিষয় জানান।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শ্যামানন্দ কুন্ডু বলেন, আদালতের শোকজের কাগজপত্র হাতে পেয়েছি। শোকজের জবাব দিবো। আমি বাদীকে কোন হুমকি দেইনি। সে যা বলছে সব মিথ্যা।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন বলেন, কোন অনিয়মের চেষ্টা হয়নি। বরং এতদিন অনিয়ম হয়ে এসেছে। আমরা সঠিক নিয়মের মধ্যেই আছি। সেটা নিয়মের মধ্যে আনা হয়েছে। আর তাই মামলার আবেদন করা হয়েছে। আদালতের কাগজপত্র হাতে পেয়েছি। শোকজের জবাব দেওয়া হবে। দেয়াল নির্মাণের বিষয়ে তিনি বলেন, স্কুলের দেয়াল নির্মাণের একটি নির্দিষ্ট সময় আছে। সেই সময়ের মধ্যেই দেয়াল নির্মাণ কাজ শেষ করতে হবে। তাই কাজ শুরু হয়েছে।

June ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« May    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

June ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« May    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
%d bloggers like this: