মাগুরানিউজ.কমঃ
বিশেষ প্রতিবেদক-
মাগুরার মহম্মদপুরে চিকিৎসক ও জনবল সংকটে বিঘ্নিত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। জোড়াতালি দিয়ে চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ, উপ-স্বাস্থ্য ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর জনবল সঙ্কটের কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না উপজেলাবাসী। এসব চিকিৎসালয়ে ১৬৬টির মধ্যে ৭৫টি কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদই শূন্য রয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শয্যা সংখ্যা ৩১-৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও বাড়েনি কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদের সংখ্যা। বর্তমানে ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ১৮টি পদের মধ্যে ১১টিই রয়েছে শূন্য। কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৭জন চিকিৎসক। এরমধ্যে একজন চিকিৎসক রয়েছেন বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে এবং অন্যজন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে। এ অবস্থায় মাত্র পাঁচজন চিকিৎসক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে উপজেলা সদরের বৃহৎ এ স্বাস্থ্য বিভাগ। এখানে একজন করে জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারী), জুনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন), জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনী), জুনিয়র কনসালটেন্ট (এনেসথেসিয়া) এবং ডেন্টাল সার্জন থাকার কথা থাকলেও সবগুলো পদ শূন্য রয়েছে। ফলে সব ধরণের অপারেশন বন্ধ রয়েছে।
২০ শয্যার বিনোদপুর হাসপাতালে চিকিৎসকের ছয়টি পদের পাঁচটি পদ শূন্য রয়েছে। এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কোন স্থাপনা না থাকায় একজন আবাসিক মেডিকেল অফিসার সংযুক্তিতে মাগুরা বক্ষব্যাধি হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন। ফলে এ হাসপাতালের সব ধরণের সেবা বন্ধ রয়েছে। যার দরুন রোগীদের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
এছাড়া উপজেলার ২৩টি কমিউনিটি ক্লিনিকসহ এসব চিকৎসা কেন্দ্রে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারির ১০৬টি পদের মধ্যে ২৮টি পদই শূন্য রয়েছে। এরমধ্যে কর্মরত ৭৮ জনের মধ্যে সাতজন রয়েছেন প্রেষণে। চতুর্থ শ্রেণির ৩০টি পদের মধ্যে ২৫টি পদ শূন্য রয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোকছেদুল মোমেনিন বলেন, মাত্র পাঁচজন ডাক্তার নিয়ে অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে যাচ্ছি। সঙ্কটের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

