মাগুরানিউজ.কমঃ
ডুঙ্গা গ্রামীণ জনপদের অতি প্রয়োজনীয় বাহন। এই বাহন নদী থেকে খালে প্রবেশ করতে, বিল থেকে মাছ ধরতেই বেশি ব্যবহার হয়। আকারে ছোট আর চালাতে সহজ বলে পাঁচ বছরের শিশু থেকে বৃদ্ধ, মহিলারা পর্যন্ত এই বাহন অতি সহজে ব্যবহার করে থাকেন।
বর্ষা মৌসুমে মাগুরার বিভিন্ন এলাকায় বেড়ে যায় তালগাছের তৈরি ডুঙ্গার ব্যবহার। ফলে শিশু, নারীসহ সবার কাছেই জনপ্রিয় ও প্রয়োজনীয় এ বাহনের বেচাকেনায় বিভিন্ন প্রান্তে বসেছে ডুঙ্গা নৌকার হাট। এর মধ্যে নড়াইল-যশোর সড়কে তুলারামপুরের ডুঙ্গার হাট বৃহত্তম। এখানে শুক্র ও সোমবার দুদিন হাট বসে। বর্ষার শুরুতেই জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এখানে বেচাকেনা চলে। প্রতিদিন বিক্রি হয় কয়েকশ ‘ডুঙ্গা’।
মাগুরা জেলার ব্যবসায়ীরা জানান, নড়াইলে কারিগরদের তৈরি ডুঙ্গার মান বেশ ভালো এবং ব্যবহার করা যায় অনেক দিন। এখান থেকে ডুঙ্গা কিনে তারা ব্যবহ্যার করেন। এ হাটের পরিবেশ ভালো এবং রাস্তার পাশেই অবস্থান হওয়ায় সহজে পরিবহন করা যায়।
ডুঙ্গা কারিগররা জানান, বর্ষার সময় চার-পাঁচ মাস তারা ডুঙ্গা তৈরির কাজ করেন। সাধারণত তালগাছ থেকেই এ ডুঙ্গা তৈরি হয়। আকারভেদে একটি তালগাছের দাম পড়ে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা। একটি গাছ থেকে ডুঙ্গা নৌকা তৈরি হয় দুটি করে। আর চাহিদা ও পরিমাপ অনুযায়ী একেকটি ডুঙ্গা ১ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হয়।
সম্পূর্ণ লোকজ পদ্ধতিতে তৈরি এ ডুঙ্গা লোকসংস্কৃতির অংশ। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশের চিরাচরিত ঐতিহ্য। তাই এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া জরুরি বলে মনে করছেন লোকসংস্কৃতি গবেষকরা।


