মাগুরানিউজ.কমঃ
শুরু হয়েছে বর্ষা মৌসুম। আর বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে মাগুরাতে মাছ ধরার ঘুর্নি, জালসহ মাছ ধরার উপকরন বিক্রি ধুম পড়ে যায়। বিশেষ করে গ্রামীণ জীবনে বর্ষায় দলবদ্ধভাবে মাছ শিকার উৎসবে পরিণত হয়।
এসময় জেলার গ্রামীণ জনপদের পুকুর, বিল-খাল, ডোবা, নালা ইত্যাদি পানিতে ডুবে থাকে। বিশেষ করে গ্রাম-গঞ্জের বিল অঞ্চলগুলোতে পানি জমে থাকে দীর্ঘদিন। আর বর্ষার নতুন পানিতে দেশীয় নানা প্রজাতীর মাছের বিচরণ বৃদ্ধি পায় সহজে। টানা বর্ষনের পানিতে নদী-খাল-বিল একাকার হয়ে যায়। মূলত নদ-নদীর বিভিন্ন মাছ এসময় ধরা পড়ে শিকারীদের জালে।
এতে শিকারীদের মনে আনন্দের বন্য বয়ে যায়। আবার অনেকের পুকুর বা মাছের ঘের প্লাবিত হয়ে মাছ চলে আসে খালে বা বিলের পানিতে। তাই বর্ষার এ সময়টাতে জেলায় মাছ ধরার উপকরেন কদর বেড়ে যায়। গ্রামের ঘরে ঘরে জাল প্রস্তুুত রাখে সবাই। আবার অনেকেই নতুন জাল কিনে রাখে মাছ শিকারের জন্য। যুবকরা দল বেধে মাছ শিকারে যায়। এক ধরনের উৎসবে মেতে উঠে গ্রাম গঞ্জের মানুষ।
ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, এখানে ঝাকি জাল বড় সাইজের সর্বনিম্ন ১ হাজার ৮শ’ টাকা থেকে সর্বোচ্চ আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি ধরনের ঝাকি জাল ১২শ’ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়। এছাড়া কোনা জাল ৬শ’ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১৩শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এখানে জালের মেরামতেরও কাজ চলছে। আষাঢ়-শ্রাবন এ ২ মাসেই মূলত তাদের ব্যবসা সবচেয়ে ভালো হয় বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
জাল ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান জানান, ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তারা এ পেশায় রয়েছেন। মূলত বর্ষার সময়টাকে তারা মাথায় রেখে সারা বছর কাজ করেন। এই সময়টা ছাড়া প্রায় পুরো বছর আমাদের তেমন একটা বেচা-কেনা থাকে না। এসময়ে ব্যবসায় যে লাভ হয় তা দিয়েই আমাদের সংসার চলে। গ্রাম থেকে আগত ক্রেতারাই বেশি পরিমাণে জাল কিনছেন বলে তারা জানান
জালক্রেতা সুজিত জানান, বর্ষা মৌসুমে খাল-বিল, নদী-নালার পানিতে মাছ ধরার জন্য জাল কিনতে এসেছি।


