১২দিনেও জ্ঞান ফেরেনি! কালিগঞ্জে নির্যাতিত মাগুরার কিশোর পারভেজ

মাগুরানিউজ.কমঃ

বিশেষ প্রতিবেদক-

মাগুরার শালিখা উপজেলার সিমাখালীর পিয়ারপুর গ্রামের শিমুল হোসেনের ছেলে পারভেজ হোসেন (১৪)। সে জন্মের পর থেকেই তার নানা কালীগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর গ্রামের জিল্লুর রহমানের বাড়িতে বসবাস করে আসছিল। সে গত বছর থেকে রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসাবে কাজ করছিল।

পারভেজের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, গ্রামের এক মেয়ের সঙ্গে কথা বলার ঘটনায় তার উপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। রাতভর পিটিয়ে ও পুরুষাঙ্গে পেরেক ঢুকিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ জানিয়েছেন তার মা। নির্যাতনের পর ১২দিনেও তার জ্ঞান ফেরেনি।

এ ঘটনায় সোমবার (৩ জুলাই) পারভেজের মা পারভিনা বেগম বাদি হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ২ জনকে আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। মামলা নং-২।তারিখ-০৩/০৭/২০১৭ ইং।

নির্যাতিত পারভেজের মা পারভীনা বেগম গণমাধ্যমে জানান, তার ছেলে পারভেজ ও তার চাচাতো ভাই গত ২২ জুন বিকাল ৫টার দিকে পার্শ্ববর্তী গ্রাম দাসবায়সা গ্রামের আজিজুলের মেয়ের সঙ্গে রাস্তায় দাঁড়িয়ে কথা বলছিল। এসময় মেয়ের বাবা আজিজুল ও তার লোকজন এসে পারভেজকে মারধর করে ধরে নিয়ে যায়। এসময় পারভেজের সঙ্গে থাকা তার চাচাতো ভাই নাজমুল পালিয়ে এসে বাড়িতে খবর দেয়। তবে পরিবারের লোকজন দাসবায়সা গ্রামে গিয়ে আর পারভেজকে খুঁজে পায়নি।

পরের দিন ২৩ জুন দুপুরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সাগর বিশ্বাস ফোনে জানায়, তোমাদের ছেলেকে পাওয়া গেছে, এসে নিয়ে যাও। এরপর পরিবারের লোকজন গিয়ে দেখে ছেলে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে।

ছেলের অবস্থা খারাপ দেখে ওইদিন দুপুর ২টার দিকে প্রথমে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। পারভেজের অবস্থার অবনতি হলে ডাক্তাররা তাকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। সেখানে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর সেদিন রাতেই ডাক্তাররা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। ঈদের আগের দিন ঢাকায় নিয়ে যায়। সেখানে তার মাথায় অপারেশন করা হয়েছে।  পারভেজ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১০০নং ওয়াডের ইউনিট-২ এর বি-৪০ নং বেডে চিকিৎসাধীন ছিল। সোমবার তাকে কালীগঞ্জে আনা হয়েছে। এখনো তার জ্ঞান ফেরেনি।

কালীগঞ্জ থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, চিকিৎসার জন্য তারা সময়মতো থানায় মামলা করতে আসতে পারেনি। পরে তারা মাগুরা জেলার শালিখা থানায় মামলা করতে গিয়েছিল। সেখান থেকে পরামর্শ পেয়ে সোমবার তারা কালীগঞ্জ থানায় ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ২ জনকে আসামি করে মামলা দিয়েছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ছাদেকুর রহমান জানান, খবর পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে তিনি ওই শিশুকে দেখতে তাদের বাড়িতে গিয়েছিলেন। টিনের ঘরের প্রচন্ড গরমের মধ্যে তাকে রাখা হয়েছে। তার অবস্থা খুবই খারাপ। তার চিকিৎসার জন্য পরিবারের সদস্যদের কাছে ৫ হাজার টাকা এবং কালীগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করানোর জন্য অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

April ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Mar    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

April ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Mar    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
%d bloggers like this: