মাগুরানিউজ.কমঃ
‘ধান ভানতে শিবের গীত’ মাগুরা জেলায় আজও এই প্রবাদটি বহুল প্রচলিত। রাজা চন্দ্রগুপ্ত গুপ্ত সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। দু’বছর রাজত্বের পর তার পুত্র সমুদ্রগুপ্ত সিংহাসনে বসেন। তিনি বহু রাজ্য দখল করেছিলেন। সমতট ছিল তার মধ্যে একটি। মাগুরা জেলা ছিল এই সমতটের মধ্যে।
সমুদ্রগুপ্তের পুত্র দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত যার উপাধি ছিল বিক্রমাদিত্য। তিনি ছাড়াও কুমার গুপ্ত ও সুন্ধ গুপ্তসহ আরো কয়েকজন এ রাজ্যে রাজত্ব করেছিলেন। এক সময় শশাঙ্ক কর্ণসুবর্ণে রাজধানী স্থাপন করেন। তখন তিনি পূর্বদেশও দখল করে নিয়েছিলেন। ফলে সমতটও তার অধীন হয়ে পড়ে।
তার রাজত্বকালে সমতটের নানা স্থানে শিবমূর্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
ঐতিহাসিক সতীশচন্দ্র মিত্র বলেছেন, “এই যুগে সমতট ও কলিঙ্গের মত কতস্থান হইতে কত লোক সমুদ্র হতে বালি, লম্বক ও সুমাত্রা প্রভৃতি দ্বীপে গিয়া শৈবমত প্রচার এবং বহু সংখ্যক শিবমন্দির প্রতিষ্ঠিত করিয়াছিলেন। এই নব ঔপনিবেশিক বাঙালীর শক্তি বৃদ্ধি করিয়াছিল। শিবের লিঙ্গ মূর্তি সব জাতীয় লোকে স্পর্শ করিতে ও পূর্জা করিতে পারে। শিবপূজা সকলের কর্তব্য, এতে অধিকারী ও অনাধিকারীর ভেদ নাই, দীক্ষিত না হইলেও বালক বালিকায় ও ইচ্ছামত জলে, ফুলে বিলবকলে শিব পূর্জা করিতে পারে-এই উদার পদ্ধতি হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের সমন্বয় করিয়া দিয়া ছিলেন।
ক্রমেক্রমে এ অঞ্চলের লোক এত শৈব মতবলম্বী হইয়াছিল যে সকলে শিব পূজা করিত। শিব কথা কহিত, শিব গীত গাইত এবং শিবের তর্থকথা এমনভাবে সকল বর্ণে প্রবেশ লাভ করেছিল যে, ‘ধান ভানতে শিবের গীত’ এদেশের একটি প্রবাদ বাক্য হইয়া রহিয়াছে।”


