মাগুরানিউজ.কম:
হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি আশ্রমের সেবায়েতকে জড়িয়ে ফেসবুকে অশ্লীল বাক্য ব্যবহার করার দায়ে গত বুধবার রাতে শ্রীপুর থানা পুলিশ জুয়েল রানা নামে এক কথিত সাংবাদিককে আটক করতে সক্ষম হন। দীর্ঘসময় থানায় আটক থাকার পর হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের লোকজনদের সহযোগিতায় শালিশ মধ্যস্থতায় সাধারণ ক্ষমার মাধ্যমে অবশেষে থানায় মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান জুয়েল রানা।
জানা যায়, উপজেলার খামারপাড়া গিরিধারী আশ্র্রমের এক জনপ্রিয় সেবায়েত অসীম বাবাজীর ছবি ক্যামেরায় তুলে তার নিচে বিভিন্ন ধরনের অশ্লীল বাক্য লিখে তিনি ফেসবুকে পোস্ট করেন । বিষয়টি এলাকার লোকজনদের দৃষ্টিগোচর হলে সাথে সাথেই পুলিশকে অবগত করা হয়। শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা পেয়ে তাৎক্ষণিক তাকে থানায় ডেকে এনে আটক করেন এবং তার সাংবাদিকতার নামধারী পরিচয়পত্রটি জব্দ করেন। প্রায় ৩-৪ঘণ্টা থানায় আটক থাকার পর হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় ও পরিবারের লোকজনদেও সহযোগিতায় শালিশ মধ্যস্থতার সাধারণ ক্ষমার মাধ্যমে অবশেষে থানায় মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান তিনি ।
এলাকাবাসী জানান যে, মদনপুর গ্রামের মোত্তালেব বিশ্বাসের পুত্র ও শ্রীপুর বাজারের পুস্তক ব্যবসায়ী জুয়েল রানা বেশ কিছুদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে অবাধে বিচরণ করত। তিনি ঢাকা থেকে প্রকাশিত একটি নামসর্বস্ব কথিত পত্রিকার পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে কখনও গলায় কখনও মাজার কোমরে বেঁধে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অনুষ্ঠান, পরীক্ষা কেন্দ্র ও নির্বাচন কেন্দ্র পরিদর্শন করতে দেখা যেত। কিন্ত তার লেখা কোন সংবাদ কোন পত্রিকায় অদ্যবধি প্রকাশিত হয়েছে কিনা তা কেউ অবগত নন। তিনি কাঁধে ক্যামেরা ও সাংবাদিক স্টিকার সম্বলিত মোটরসাইকেল নিয়ে থানা, হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি অফিসে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বীরদর্পে ঘুরে বেড়ান। তার হলুদ সাংবাদিকতার কর্মকান্ডে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার স্বনামধন্য প্রকৃত সাংবাদিকরাও মাঝে মধ্যে চরম বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়ে যান বলেও শ্রীপুরের সাংবাদকর্মীরা জানিয়েছেন।

