‘অষ্টাদশ শতাব্দীতেই মাগুরার গ্রামগঞ্জে শতশত কারখানা’ -মাগুরাবাসি জেনে নিন (পর্ব-২৫)

মাগুরানিউজ.কমঃ

mnবিশেষ প্রতিবেদন-  

আমরা মাগুরাবাসি, এতেই গর্ব অনুভব করি। গর্ব করার জন্য মাগুরা নামটাই যথেষ্ট, প্রয়োজন নেই কোনও গৌরচন্দ্রিকারও। তাই কোনও সূচনা নয়, একেবারে ‘টু দ্য পয়েন্ট’, ‘মাগুরানিউজ’ জানাচ্ছে ( এই বিষয় নিয়ে প্রকাশিত ও স্বীকৃত তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে মাগুরা নিউজের তথ্য গবেষনা সেলের তৈরী এই প্রতিবেদন) এমন কিছু তথ্য যা জেনে আপনি প্রবাসেই থাকুন, মাগুরাতে থাকুন বা দেশের যেখানেই থাকুন আরো বেশি জানুন জানা-অজানা আপনার প্রিয় মাগুরাকে। শেয়ার করে মাগুরার সবাইকে জানতে সহযোগিতা করুন।

-”মাগুরাবাসি আর এগুলো জানবেন না!”  শিরোনামের বদলে –

”মাগুরাবাসি জেনে নিন” এই শিরোনামে প্রকাশিত হবে।

২৫তম পর্ব- 

অষ্টাদশ শতাব্দীতেই মাগুরার গ্রামগঞ্জে শতশত কারখানা-

এ অঞ্চলের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে একটা বিশেষ জায়গা দখল করে নিয়েছে খেজুরের রস, নলেন গুড় ও পাটালি, তা নিয়ে কারও দ্বিমত নেই। ঐতিহাসিক সতীশ চন্দ্র মিত্রের ‘যশোর খুলনার ইতিহাস’ গ্রন্থসুত্রে জানা যায়, এক সময় যশোর অঞ্চলের প্রধান কৃষিজ পণ্য ছিল খেজুরের গুড়। এই গুড়ের সথে যুক্ত ছিল অর্থনৈতিক কর্মকান্ড।

এই অঞ্চলের মাটি সাধারণত বেলে দো-আঁশ। আর পানিতে লবনাক্ততা নেই। ফলে গাছের শিকড় অনেক নিচে পর্যন্ত যেতে পারে। সব মিলিয়ে জলবায়ু উপযোগী যশোরের খাজুরা, বাঘাপাড়া, মনিরামপুর, শার্শা ও মাগুরার শালিখা অঞ্চলের খেজুরের রস বেশি সুগন্ধি ও সুস্বাদু হয়ে থাকে।

আরও জানা যায়, ১৯০০-১৯০১ সালে পুরো বঙ্গে খেজুরের গুড় উৎপাদিত হয়েছে ২১লাখ ৮০হাজার ৫৫০মণ। এর মধ্যে কেবল বৃহত্তর যশোরেই উৎপাদিত হয়েছে ১৭লাখ ৯হাজার ৯৬০মণ, সেই সময় যার দাম ছিল ১৫লাখ টাকা।

দেশের চাহিদা মিটিয়ে এই গুড় আমেরিকা ইউরোপেও রফতানি হয়েছে।

খেজুর গাছের জন্যেই অষ্টাদশ শতাব্দীতে গড়ে উঠেছিল গ্রামগঞ্জে গুড় তৈরি হাজারও কারখানা। ১৮৬১ সালে প্রথম চৌগাছার তাহিরপুরে কপোতাক্ষ নদের ধারে মি. নিউ হাউস খেজুরের রস দিয়ে চিনি উৎপাদনের যান্ত্রিক কারখানা গড়ে তোলেন।

এ কারখানায় উৎপাদিত চিনি ইউরোপেও রফতানি হত। ১৮৮০ সালে কারখানাটি এমেন্ট এন্ড কম্পানি কিনে নেয়। ১৮৮৪ সালে এটি ফের বিক্রি হয় বালুচরের জমিদার রায় বাহাদুর ধনপত সিংহের কাছে।

১৯০৬ সালে তার মৃত্যুর পর ১৯০৯ সালে কাশিম বাজারের মহারাজ মনীন্দ্র চন্দ্র ও কলকাতা হাইকোর্টের জজ সারদা চরন মিত্র কারখানাটি কিনে নেন। তারা তখন কারখানার উৎপাদিত শত শত মণ খেজুরের গুড় জাপান, আমেরিকা ও ইউরোপে রফতানি করেছেন।

কারখানাটি ১৯৪৭ সালের আগ পর্যন্ত চালু ছিল। পরে আখের চিনির সাথে প্রতিযোগিতায় হেরে বন্ধ হয়ে যায় কারখানারটির চাকা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

May ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Apr    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

May ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Apr    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
%d bloggers like this: