মাগুরানিউজ.কম:
গতকাল দুপুরে মাগুরায় আট মাসের শিশু সন্তানকে নিয়ে গায়ে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এক মা। এসময় অগ্নিদগ্ধ হয়ে মেয়ে শ্রুতির মৃত্যু হয়েছে। মা অনিমা রানী (৩০) আশংকাজনক অবস্থায় মাগুরা সদর হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে অগ্নিদগ্ধ সেই মায়েরও মৃত্যু হয়েছে।
শালিখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু জিহাদ খান জানান, শালিখা উপজেলার থৈপাড়া গ্রামের সুমন কুমারের স্ত্রী অনিমা রানীর একটি গলার সোনার হার হারিয়ে যায়। এ নিয়ে স্বামী সুমন কুমার স্ত্রীকে বকা দিলে অভিমানে স্ত্রী অনিমা রানী তার ৮ মাসের মেয়েকে নিয়ে বাড়ির ধানের আউড়ির মধ্যে ঢুকে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। ফলে দুজনই আগুনে পুড়ে দগ্ধ হন।
আশংকাজনক অবস্থায় তাদের মাগুরার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে শিশু শ্রুতির মৃত্যু হয়। মা অনিমা রানী আশংকাজনক অবস্থায় সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় রাতে তারও মৃত্যু হয়।
শালিখা থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ হাফিজ বলেন, ‘স্বামী ও শ্বশুর শাশুড়ির সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়া বিবাদ হয়। আজ সকালে ধানের গোলার ভেতরে শিশুকে নিয়ে গিয়ে অনিমা নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে দেয়। পরে প্রতিবেশীরা তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসে।’
হাফিজ জানান, প্রতিবেশীরা মা ও মেয়েকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
সদর হাসপাতালের চিকিৎসক শফিউর রহমান জানান, মা ও শিশুটির প্রায় ৯০ ভাগই দগ্ধ হওয়ার কারণে তাদের বাঁচানো যায়নি।
শালিখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফখরুল ইসলাম আবু জিহাদ জানিয়েছেন, এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে অনিমার স্বামী সুমন বিশ্বাস এবং শাশুড়ি মনিমালাকে আটক করা হয়েছে।

