মাগুরানিউজ.কমঃ
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব পরিচয় দিয়ে অভিনব প্রতারণার মাধ্যমে গত ২১ ফেব্রুয়ারী বিকেলে মাগুরা শহরের বিউটি জুয়েলার্স থেকে ৫ ভরি সোনার গহনা নিয়ে পালানো তথাকথিত খোরশেদ আলমকে ধরিয়ে দিতে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে মাগুরা পুলিশ। মাগুরার পুলিশ সুপার একেএম এহসান উল্লাহ আজ সাংবাদিকদের কাছে এ তথ্য জানান।
সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত ফুটেজ দেখে ওই প্রতারকের সহযোগি ব্যবহৃত গাড়িটির ড্রাইভারকে সনাক্ত করেছে পুলিশ। গত ২১ ফেব্রুয়ারী বিকেলে নিজেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব খোরশেদ আলম পরিচয় দিয়ে মাগুরা সার্কিট হাউজ ব্যবহার করে ওই প্রতারক।
এমনকি এ প্রত্রিুয়ায় উক্ত ব্যক্তি ডিএস পরিচয়ে মাগুরা সার্কিট হাউস এবং রোডস এন্ড হাইওয়ে রেস্ট হাউজ ব্যবহার করে।
এ সময় তার ব্যবহৃত গাড়ির ড্রাইভারসহ তিনি ঘন্টা খানেক সার্কিট হাউজে অবস্থান করেন। পরে এক আত্মীয়ের বিয়ের জন্য সোনার গহনা কেনার কথা বলে তিনি দামী গাড়িতে চড়ে শহরের সৈয়দ আতর আলী সড়কে মওলানা মাকের্টে ওহিদুর রহমানের বিউটি জুয়েলারীতে যান।
সেখানে গিয়ে খাটি সোনার গহনা কেনার কথা বলে নিজ মোবাইল থেকে এনডিসি রবিউল হাসানকে দিয়ে দোকানীর সঙ্গে ফোনে কথা বলান। এনডিসি রবিউল হাসান সরল বিশ্বাসে সোনার দোকানী ওহিদুর রহমানকে মোবাইল ফোনে স্যারকে খাটি সোনার গহনা দিতে বলেন।
এ সময় বিভিন্ন ধরনের ৫ ভরি সোনার গহনা নিয়ে দোকানীকে প্রতারক বলে, ব্যাংক বন্ধ থাকায় সব টাকা কাছে নেই। ম্যাডাম (স্ত্রী) কাছে টাকা আছে। সার্কিট হাউজে যেতে হবে বলে গহনা নিয়ে দোকানী ও তার এক সহকর্মীকে নিজের গাড়িতে ওঠান।
এ সময় সে শহরের টিটিডিসি পাড়ায় ওই দোকানিদের সড়ক বিভাগের রেস্ট হাউজে গিয়ে গাড়ি থেকে নেমে একটি রুমে বসিয়ে পিয়ন ডেকে তাদের কফি দিতে বলে।
এরপর প্রতারক তাদেরকে বলে ম্যাডাম পাশের রুমে রয়েছেন। কফি খান এর মধ্যে গহনাগুলো দেখিয়ে টাকা নিয়ে আসছি বলে রুমের ভিতর ঢুকে যান।
এর পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর তিনি আর ফিরে না আসায় সোনার দোকানী ওহিদুর রহমান পিওনকে ডেকে জিজ্ঞেস করেন, স্যার ম্যাডামের কাছ থেকে টাকা এনে দেওয়া কথা বলে বসিয়ে রেখে গেলেন কিন্তু এখনো আসছেন না কেন ?
পিওন জানান, এখানে কোন ম্যাডাম নেই। আপনাদের নিয়ে যে সার এসেছিলেন কিছুক্ষণ অগে তিনি পেছন থেকে গাড়িতে করে চলে গেছেন। যাওয়ার সময় বলেছেন, একটু পরে আসছি গেস্ট থাকলো খেয়াল রেখো।
পুলিশ সুপার জানান, রাতে এনডিসি ও সোনার দোকানী বিষয়টি তাকে জানানোর পর শহরের লাগানো সিসি ক্যামারার ফুটেজ দেখে ইতিমধ্যে প্রতারকের ব্যবহৃত গাড়িটি সনাক্ত হয়েছে।
তবে গাড়ির নাম্বারটি সঠিক না হওয়ায় তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পুলিশ তার পরিচয় নিশ্চিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
পুলিশ সুপার একেএম এহসান উল্লাহ জানান- সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ওই প্রতারকের সহকারির একটি ছবি সংগ্রহ করা গেছে। প্রতারককে ধরিয়ে দিতে পারলে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেয়ার ঘোষনা দেন তিনি।
যোগাযোগ: ০১৭১৩৩৭৪১৭৫, ০১৭১৩৩৭৪১৭৬, ০১৭১৩৩৭৪১৭৭, ০১৭১৩৩৭৪১৭৯। তথ্য প্রদানকারী ব্যক্তির পরিচয় গোপন রাখা হবে।


