মাগুরানিউজ.কম:
জগদ্ধাত্রী দেবী ত্রিনয়না, চতুর্ভূজা ও সিংহবাহিনী। তাঁর হাতে শঙ্খ, চক্র, ধনুক ও বাণ; গলায় নাগযজ্ঞোপবীত। বাহন সিংহ করীন্দ্রাসুর অর্থাৎ হস্তীরূপী অসুরের পৃষ্ঠে দণ্ডায়মান। দেবীর গাত্রবর্ণ উদিয়মান সূর্যের ন্যায়। কার্তিক মাসের শুক্লা নবমী তিথিতে দেবী জগদ্ধাত্রীর বাৎসরিক পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
মাগুরাতে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও বিপুল উৎসাহ-উদ্দিপনার মধ্য দিয়ে আজ শুরু হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী জগদ্ধাত্রী পূজা। কাত্যায়নী পূজার নবমীতে বিভিন্ন মন্ডপে চলছে জগদ্ধাত্রী পূজা।
জেলা সদরে ৫টি সহ জেলায় মোট ৪০টি মন্ডপে এবছর এ পূজা অনুষ্ঠিত হবার খবর পাওয়া গেছে।

মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী দত্ত বাড়ির ঐতিহ্যবাহী জগদ্ধাত্রী পূজা সুপ্রাচীন কাল থেকে বংশ পরম্পরায় অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। শতবর্ষ পেরিয়ে এ পূজা এখনো তার বনেদিআনায় অটুট রয়েছে।
দত্ত বাড়ির নিমাই কুমার দত্ত জানালেন, পারিবারিক এ পূজার রয়েছে নিজস্ব বনেদিয়ানা। শতবর্ষ পেরিয়ে এ পূজা এখনো তার নিজস্ব বৈশিষ্টে অমলিন।
তুষার কুমার দত্ত জানান, বংশ পরম্পরায় অনুষ্ঠিত হওয়া এ পূজা তারা চালিয়ে যেতে চান। মাগুরাতে ব্যক্তি উদ্যোগে এবং পারিবারিক ভাবেই বেশিরভাগ জগদ্ধাত্রী পূজার আয়োজন হয়ে থাকে।এই পূজা উপভোগ করতে দুর-দূরান্ত থেকে দর্শক বা ভক্ত জনেরা উপস্থিত হন।
ঐতিহ্যবাহী এ পূজার বিষয়ে দত্ত পরিবারের প্রয়াত সন্তোষ কুমার দত্তের সহধর্মিনী মাগুরা সাতদোহা আশ্রমের সভাপতি লিপিকা দত্ত বলেন, সুপ্রাচীন কাল থেকে বংশ পরম্পরায় অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে এ পূজা। বাড়ির নিজস্ব মন্দিরে প্রতিবছর এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। বংশের পূর্বপুরুষ লোহারাম দত্ত প্রথম এই পূজার প্রচলন করেন।
লিপিকা দত্ত আরো জানান, জগদ্ধাত্রী হলেন দেবী দুর্গার আর এক রূপ। উপনিষদে এঁনারই নাম উমা হৈমবতী। বিভিন্ন তন্ত্র ও পুরাণ গ্রন্থেও এঁর উল্লেখ রয়েছে। তবে এই দেবীর আরাধনা মূলত বঙ্গদেশেই প্রচলিত। তবে ভারতের হুগলির চন্দননগর ও নদিয়ার কৃষ্ণনগরে জগদ্ধাত্রী পুজো বেশি জনপ্রিয় ।
জীবন দত্ত জানান, দুর্গা ও কালীপুজোর তুলনায় দৌড়ে পিছিয়ে থাকলেও মাগুরাতে জগদ্ধাত্রী পুজোর রেওয়াজ রয়েছে৷এই পূজা উপভোগ করতে দুর-দূরান্ত থেকে ভক্ত জনেরা উপস্থিত হয়। মাগুরায় এই জগদ্ধাত্রী পূজার সব কিছুই বিরাট ভাবে হয়। বিশেষ করে নবমীর পূজা তো বটেই।
পূজার বিষয়ে দত্ত পরিবারের প্রয়াত সন্তোষ কুমার দত্তের ছেলে সন্জয় কুমার দত্ত জানান, ১৯৩০ সাল থেকে বর্তমান মন্দিরে পূজা হচ্ছে তার আগে ঐ স্থানেই টিন ও খড়ের ঘরে পূজা হতো। পারিবারিক এ পূজার ঐতিহ্য রক্ষা করতে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। পরিবারের পক্ষ থেকে সবাইকে পূজা দেখার আমন্ত্রন জানিয়েছেন।



