মাগুরানিউজ.কম:
ঢাকার গাবতলীতে টহল চৌকিতে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ইব্রাহিম মোল্লাকে হত্যার ঘটনায় মাগুরা থেকে দুই স্কুলছাত্রকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার বিকালে মহম্মদপুর উপজেলার শিরগ্রাম ও বিলঝলমল গ্রাম থেকে তাদের আটক করে সাদা পোশাকের পুলিশের একটি বিশেষ দল।
আটককৃতরা হলো শিরগ্রামের রাশেদ শেখের ছেলে আয়াতুল্লাহ (১৪) ও বিলঝলমল গ্রামের বারেক মোল্যার ছেলে রিপন মোল্যা (১৩)। তাদের কাছ থেকে এএসআই ইব্রাহিম ও দুর্বৃত্তদের ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোনসেট ও সিম উদ্ধার করা হয়েছে।
আয়াতুল্লাহ মহম্মদপুর উপজেলার পাল্লা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জেএসসি পরীক্ষার্থী এবং রিপন একই বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির অনিয়মিত ছাত্র। আটকের বিষয়টি ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন।
গত ২২ অক্টোবর রাতে গাবতলীর টহল চৌকিতে এএসআই ইব্রাহিম মোল্লাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। দুর্বৃত্তদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে দারুসসালাম থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ফারুকুল আলম ও মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) এসআই মো. মজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সাত সদস্যের সাদা পোশাকের একটি বিশেষ দল মাগুরায় অভিযান চালায়।
এ সময় দলটির সঙ্গে ফরিদপুরের মধুখালী ও মহম্মদপুর থানার বাবুখালী ফাঁড়ির পুলিশও ছিল। অভিযানে আয়াতুল্লাহর কাছ থেকে দুটি ও রিপনের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন ও সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়।
আটককৃতদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চাকরির কথা বলে রিপন সম্প্রতি ঢাকা যায়। সেখান থেকে একটি দামি মোবাইল এনে আয়াতুল্লাহর কাছে বিক্রি করে। রিপন এই মোবাইল ফোনটি ঢাকায় অবস্থানরত প্রতিবেশী আকিদুল মোল্যা ও লিটনের কাছ থেকে এনেছে বলে জানায়।
বিলঝলমল গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর শুকুর মোল্লার ছেলে আকিদুল ও মহম্মদ আলীর ছেলে লিটনের বিরুদ্ধে এলাকায় ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েকটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আয়াতুল্লাহ পাল্লা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এ বছর জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা। দুটি মোবাইল ফোন সে তার স্কুলের বন্ধু রিপনের কাছ থেকে কিনেছিল বলে তার পরিবারের দাবি। আয়াতুল্লাহর বাবা রাশেদ শেখ অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা বলে জানা গেছে। পাঁচ বোন ও চার ভাইয়ের মধ্যে সে সবার ছোট।
আয়াতুল্লাহর মা মমতাজ ও রিপনের বাবা বারিক মোল্যা দুজনই স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য। তারা তাদের ছেলেদের নির্দোষ দাবি করেন।
বিলঝলমল গ্রামের আকিদুল ও লিটনের বাড়িতে গেলে তাদের স্বজনরা কথা বলতে রাজি হননি। আকিদুল এবং লিটন দীর্ঘদিন বাড়িতে আসে না বলে এলাকাবাসী জানায়।
পাল্লা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আটক দুজনই আমার স্কুলের ছাত্র। তাদের আটক করার ব্যাপারে পুলিশ আমার কাছে আসলে তাদের সহযোগিতা করি।
মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি/তদন্ত) সাখাওয়াত হোসেন আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আটক আয়াতুল্লাহর কাছ থেকে এএসআই ইব্রাহিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে। মোবাইল ফোনটি রিপনের কাছ থেকে কিনেছিল সে।
মহম্মদপুর থানার বাবুখালী পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই মিজানুর রহমান বলেন, ‘আটক দুজনকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’ এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত তথ্য দিতে রাজি হননি।

