মাগুরানিউজ.কম:
কোরবানির ঈদ এলেই কয়েক দিন আগে থেকে সারা দেশে একধরনের পোস্টার লিফলেট চোখে পড়ে। তাতে লেখা থাকে, ‘আপনার কোরবানির চামড়া অথবা উহার মূল্য মাদ্রাসায় দান করুন’। বিভিন্ন মাদ্রাসা, এতিম খানা, লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের পক্ষ থেকে এসব বিলি করা হয়। পোস্টার লাগানো, লিফলেট বিলি থেকে শুরু করে চামড়া সংগ্রহ পর্যন্ত সব কাজই করতে হয় মূলত মাদরাসা পড়ুয়া শিশু শিক্ষার্থীদের। এমনকি এ কাজের জন্য অনেককে বাড়িতেও যেতে দেয়া হয় না। ঈদের সারাদিন অমানুষিক পরিশ্রমকরে চামড়া সংগ্রহ করে এই শিশুরা।
এদের সঙ্গে প্রাপ্ত বয়স্করা থাকলেও ভ্যানগাড়ি ঠেলা ও চালানোর, চামড়া সংগ্রহসব পরিশ্রমের কাজটা শিশুদেরই করতে হয়। সারা দিন খেটে খুটে সন্ধ্যা বেলা রক্তমাথা জামা নিয়ে ঘরে ফিরে তারা। অবশ্য এই মৌসুমে চামড়া সংগ্রহে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়িরা।
দেশে প্রায় ১৫ লাখ মাদরাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে যাদের একমাত্র আয়ের উৎস যাকাত এবং কোরবানির পশুর চামড়া। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত নয়।
মাগুরার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের জন্য শিক্ষকদের নেতৃত্বে ছাত্রদের নিয়ে টিম গঠন করা হয়। বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে গোটা শহর থেকে তারা চামড়া সংগ্রহ করছে।
তবে এই কাজে কেন শিশুদেরই ব্যবহারর করতে হবে এর কোনো উত্তর নেই।
নতুন এলাকায় সাইফুল (১৪) নামে এক মাদরাসা শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হয়। সে জানায়, ঈদের নামাজ শেষে তারা কোরবানির চামড়া সংগ্রহে নেমেছে।
পড়াশুনা করতে এসে এভাবে মাদরাসার খরচ জোগাতে নিজেরা হাড়ভাঙা খাটুনি করে এটা কিন্তু অভিভাবকরা জানেন। কিন্তু গরীব বাবা-মা’রা সস্তায় বা বিনাখরচে সন্তানকে পড়ালেখার সুযোগ করে দেয়ার আত্মতৃপ্তিতে সব মেনে নেন।
অনেক জায়গায় চামড়া সংগ্রহ করতে গিয়ে নিগ্রহেরও স্বীকার হতে হয় এসব শিক্ষার্থীকে। আতিকের (১৫) কাছ থেকে জানা গেলো, চামড়া সংগ্রহ করতে গেলে অনেক সময় স্থানীয় মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়িদের গালমন্দ শুনতে হয়।


