মাগুরানিউজ.কম:
মসলেম মিয়া পেশায় ভ্যানচালক, শহরের নতুন বাজার এলাকায় গরুর মাংস নিয়ে এসেছেন বিক্রির জন্য। শহরের বিভিন্ন বাড়ি থেকে যেসব নিম্ন আয়ের মানুষ কোরবানির মাংস সংগ্রহ করেছেন তাদের কাছ থেকে ওই মাংস তিনি কিনে এখানে বিক্রির জন্য নিয়ে এসেছেন। আর যারা এই সংগ্রহ করা মাংস কেনেন তারাও নিম্ন আয়ের মানুষ। যারা আত্নসম্মান বাচিয়ে শখপুরণ করতে এখান থেকে কমদামে মাংস সংগ্রহ করে।
সালাম বস্তিতে থাকেন। পেশায় ভ্যান চালক। কোরবানির ঈদের সময় সে সংগ্রহ করা মাংসের ব্যবসায় নামেন। সালাম জানান, সংগ্রহ করা মাংস তিনি বিক্রি করছেন প্রতি কেজি ২শ থেকে ২৩০ টাকা দরে। এই দাম বাজারদরের চেয়ে কম। এই মাংসের মান খুবই ভাল। এ মাংসগুলো তিনি কিনেছেন ১৫০ থেকে ২০০ টাকা দরে।
এই মাংসের ক্রেতা যদিও বিক্রেতাদের মতোই সাধারণ নিম্নবিত্তের মানুষ। তবে বিক্রেতা ও ক্রেতার মধ্যে একটা পার্থক্য আছে। মাংস ক্রেতারা নিম্ন আয়ের হলেও চক্ষু লজ্জার ভয়ে তারা কারো কাছে হাত পাততে পারেন না। আবার বেশি দাম দিয়ে মাংস কেনার সামর্থও তাদের নেই।
নিচু বস্তিতে থাকেন হাশেম মিয়া। এসেছেন মাংস কিনতে। তিনি নিজে রিকসা চালান, আর তার স্ত্রী বিভিন্ন বাসা বাড়িতে কাজ করেন। নিম্ন আয়ের মানুষ হলেও কারো কাছে তিনি হাত পাতেন না বলে জানান এই প্রতিবেদককে। তাই মাংস সংগ্রহ করতেও যান না। তবে তিনি এখান থেকে কম দামে মাংস কিনতে এসেছেন। মাংস কিনেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দুই কেজি মাংস কিনেছি ৪০০ টাকায়।’
মনজুর হোসেন আজ (ঈদের দিন) সকালেই শ্রীপুর থেকে এসেছেন মাংস সংগ্রহ করতে। সারাদিনে ২০ কেজি মাংস সংগ্রহ করেছেন বলে এই প্রতিবেদককে তিনি জানিয়েছেন। এরমধ্যে ১৫ কেজি মাংস বিক্রি করবেন। আর বাকী ৫ কেজি মাংস নিয়ে বাড়ি ফিরবেন।
মনজুর বলেন, ‘ভাই দিনমজুরি করে আর কয় টাকা পাই। তাই ঈদের সময় একটু বাড়তি আয়ের জন্য শহরে চলে আসি। কিছু মাংস বাসায়ও নিয়ে যেতে পারি।’
মনজুর জানান, শ্রীপুর থেকে এমন অনেকেই কোরবানির মাংস সংগ্রহ করতে মাগুরায় আসেন। আজকে আয় কেমন হবে জানতে চাইলে রাজু বলেন, ‘সাড়ে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা আয় হবে বলে আশা করছি।’


