মাগুরানিউজ.কম:
হাটে গরু উঠেছে প্রায় ১ হাজারেরও বেশি। গরু বেশি থাকলেও ক্রেতা খুবই কম। যেসব ক্রেতা হাটে এসেছিলেন তারা শুধু গরু দেখেছেন। দাম হাঁকিয়েছেন মনের মত। অনেকের দাম হাঁকানো বিক্রেতার কাছেই যায়নি। অনেক ক্রেতা আবার নিজেকে দাম জিজ্ঞাসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছেন। কোরবানির হাটের গরু বিক্রির এ চিত্র মাগুরার বেশিরভাগ পশুর হাটের।
হাটের বেচা-বিক্রির এমন হালে মোটেই হতাশ নন হাটের ইজারাদাররা। তারা বলছেন, ‘হাট জমে উঠবে আগামীকাল থেকে। কারণ আর মাত্র তিন দিন বাকী। চতুর্থ দিন থেকে ক্রেতারা স্বাভাবিকভাবেই তাদের পছন্দের পশুটি কিনতে মরিয়া হয়ে যাবেন। হাটে নতুন পশু আসবে এবং আবহাওয়া শুষ্ক থাকলে ক্রেতারাও পশু কিনবেন।’
অপরদিকে তৃতীয় দিনে বিক্রি-বাট্টা না হওয়ার কারণ হিসেবে বেপারীরা বৃষ্টিকেই দায়ী করছেন। তারা বলছেন, ‘হাটে প্রচুর পরিমাণে কাদা। এ অবস্থায় ক্রেতারা হাটে ঢুকতেই চাচ্ছেন না। যে দু’একজন ঢুকছেন তারা শুধু দাম হাঁকিয়েই চলে যাচ্ছেন।’
বিভিন্ন হাটঘুরে দেখা গেল, পুরো হাটে ক্রেতার সংখ্যা ছিল অত্যন্ত কম। হাটের নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় ক্রেতারা গরু দেখছেন। দাম হাঁকিয়ে চুপ করে থেকেছেন ক্রেতারা। অনেক বিক্রেতা গরুর দাম যা বলেছেন তার অর্ধেক বলেছেন ক্রেতা। ফলে দরদামে না বনায় বিক্রিও হয়নি সেই গরু।
হাট আজও কাদায় পূর্ণ থাকায় ভোগান্তি ছিল চরমে। হাট কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে বলার পরও তারা কোনো গুরুত্ব দেননি বলে বেপারীদের অভিযোগ। বেপারীরা গরু রাখার জায়গায় চট, চাটাই ও বালু দিয়ে গরু রেখেছেন। পুরো হাট কাদার রাজ্যে পরিণত হয়েছে। গরু ও বেপারীকে কাদায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। অনেক বেপারী গরুর সুরক্ষায় কোদাল দিয়ে মাটি কেটে পানি অন্যত্র সরিয়ে দিচ্ছেন।
হাটে তেমন বিক্রি না হওয়ায় ইজারাদারের লোকজনও হাত গুটিয়ে টঙ দোকানে বসে গল্পগুজব করে সময় কাটাচ্ছেন। আর মূল দায়িত্বে যারা আছেন, তারাও গরু বিক্রির খোঁজখবর নিতে কাদার ভয়ে হাটে ঢুকছেন না। যারা গরু বিক্রির পর নিজ উদ্যোগে আসছেন তাদের থেকেই হাসিল আদায় করছেন তারা।
এর পাশেই ঝিনাইদাহ হরিনাকুণ্ড থেকে গরু নিয়ে আসা আব্দুল কুদ্দুস দেড়লাখ টাকার একটি গরু নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। এত দাম হাঁকালেও তখন পর্যন্ত কোনো ক্রেতা পাননি বলে জানালেন তিনি। পাশাপাশি এও জানালেন, যারাই আসছেন শুধুই দাম জিজ্ঞাসা করছেন আর চলে যাচ্ছেন। ফলে তার গরুটি তিনি কত টাকায় বিক্রি করতে পারবেন তা নিয়ে বেশ চিন্তায় আছেন এই বেপারী।
সস্ত্রীক গরু কেনার জন্য এসেছেন মাসুদ রহমান। কলেজপাড়ায় থাকেন। বিকেল থেকে গরু দেখছেন। পুরো হাট ঘুরেছেন এই দম্পতি। কিন্তু পছন্দের গরুটি মেলেনি তাদের ভাগ্যে। তাছাড়াও বাজেটের মধ্যে গরু মিলছেও না। বিক্রেতারা দাম একটু বেশি চাওয়ার কারণে তার গরু কেনা হয়নি বলে জানালেন তিনি।


