মাগুরানিউজ.কম:
মাগুরার বিভিন্ন পশুর হাট ও ভ্রাম্যমান বিক্রেতাদের কাছে কালো ছাগলের ছড়াছড়ি কারণ কালো ছাগলের প্রতি ক্রেতাদের কদর বেশি। আর তাই ছাগল ব্যাবসায়ীরাও এতে আশ্রয় নিয়েছে প্রতারণার।
সাদা রঙের ছাগলের গায়ে কলপ আর লালচে রঙের ছাগলের গায়ে মেহেদী লাগিয়ে সুন্দর আর ঔষধ খাইয়ে মোটা বানিয়ে তোলা হচ্ছে কোরবানির হাটে।
সাধারণত আমাদের সমাজে মানুষ নিজেকে তরুন ও আকর্ষণীয় করতে বা বয়স কমাতে সাদা চুলে কলপ মেখে কালো করে থাকে। তাই বলে নিরীহ পশু ছাগলের বয়স কমানো বা আকর্ষণীয় করার জন্য কলপ ও মেহেদী ? অবাক হলেও সত্যি, সাদা ছাগলকে কলপ মাখিয়ে কালো ও পরে তেল লাগিয়ে আকর্ষণীয় করে তোলা হচ্ছে কারণ মাত্র কদিন পরই কোরবানির ঈদ, তাই ধর্মপ্রাণ মুসলমান যে যার সাধ্যমতো সুন্দর ও আকর্ষণীয় পশুটাই ক্রয় করে থাকেন। আর তাইতো অসাধু ব্যবসায়ীরা ছাগল ক্রয় করে তার সাদা গায়ে কলপ লাগিয়ে কালো করছে আর লাল ছাগলকে আরো সুন্দর করতে তার গায়ে লাগানো হচ্ছে মেহেদীর রং।
জেলার বিভিন্ন হাট বাজার ঘুরে ছাগল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বললে তারা মাগুরা নিউজকে জানান কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এমনটা করছে। তাইতো অনেকে ব্যস্ত সময় পার করছে সাদা ছাগলকে কলপ মাখিয়ে কালো আর লাল ছাগলকে মেহেদী মাখিয়ে সুন্দর করতে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রামনগর হাট এলাকার এক ছাগল বিক্রেতা জানান, রামনগর এলাকার ছাগল ব্যবসায়ীরা এক ব্যক্তির বাসায় নিয়ে ছাগলের চেহারা বদলে আনেন। সেখানে ছাগলের জন্য রয়েছে বিউটি পার্লার। পাইকাররা কম দামে সাদা-লাল ছাগল কিনে নিয়ে আসেন আর ঐ ব্যক্তি তাদের রং বদলে সুন্দর করে দেন। তাতে ছাগল প্রতি ২০০টাকা নেন ঐ ব্যক্তি।
তিনি আরো জানান, এসব ছাগল বেশিরভাগই বাইরে চালান করা হয়।
কেন এমনটা করা হয় জানতে চাইলে কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বাজারে সাদা ছাগলের চেয়ে কালো ছাগলের চাহিদা ও দাম বেশী তাই এ ধরণের প্রতারণা চলছে। তাই অধিক বিক্রী ও মুনাফা লাভের আশায় মানুষের চুলে দেওয়া ফাইভ স্টার, মারলিন, হেয়ার কোড, গোড রেজ, স্পিরিটসহ নানা রঙের কলপ দিয়ে তারা কালো করছে সাদা ছাগলকে। আর ছাগল কিনে প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
ভুক্তভুগি এক ক্রেতা মোবারক জানান, ভ্রাম্যমান বিক্রেতার নিকট থেকে গত বছর ১২ হাজার টাকায় একটি ছাগল কিনে বাড়িতে এনে গোসল করাতে গেলে দেখেন ছাগলের শরীর থেকে রং উঠছে।

