১৮ বছর পর….। মাগুরায় কেঁচো খুড়তে গিয়ে বেরিয়ে এলো বিরাট সাপ!

মাগুরানিউজ.কম:

mn

মাগুরার সদর উপজেলার আলোকদিয়া পুখরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানি ঘটিয়েছেন আঠার বছর আগে মারা যাওয়া এক ব্যক্তি। ঐ ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির দেওয়া শোকজ নোটিস থেকে মিলেছে এই তথ্য। যা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

আব্দুর রউফ বিশ্বাস নামে এক এমএলএসএসের বিরুদ্ধে এ নোটিশ পাঠানো হয়।

কিন্তু রউফের স্বজনরা জানায়, ১৯৯৭ সালে রউফ মারা গেছেন।

তাহলে প্রশ্ন সাম্প্রতিক এই ঘটনায় রউফের নামে নোটিশ কেন?

অনুসন্ধানে জানা যায়, রউফ মারা গেলেও তার নাম নিয়ে বিদ্যালয়টিতে চাকরি করে যাচ্ছেন পুখুরিয়া গ্রামের বদর উদ্দিন শেখের ছেলে আকবর হোসেন। আর অভিযোগটি আসলে তার বিরুদ্ধেই। কিন্তু বিদ্যালয়ের কাগজপত্রে আকবর নামে কেউ না থাকায় নোটিশটি গেছে রউফের নামেই।

রউফ-আকবরের এই বিভ্রান্তিতে ওই বিদ্যালয়টিতে নিয়োগে অনিয়মের বিষয়টিও প্রকাশ পেয়েছে।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য শামসুর রহমান মোল্যা বলেন, প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক আবদুল গফুর বিশ্বাস দায়িত্ব পালনের সময় ১৯৭৪ সালের ১ মে তার ছোট ভাই রউফ বিশ্বাসকে এমএলএসএস পদে চাকরি দিয়েছিলেন। কিন্তু রউফ কখনো বিদ্যালয়ে যোগদান করেননি, যদিও তার নামে বেতন-ভাতা ঠিকই তোলা হত।

গফুর চাকরিরত অবস্থায় ১৯৮২ সালে মারা যাওয়ার পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নেন গোলজার হোসেন। রউফ তখনো এই বিদ্যালয়ে আসতেন না। কিন্তু বেতন-ভাতা ঠিকই তোলা হত।

১৯৯৭ সালে রউফ মারা গেলে তার পদটি শূন্য ঘোষণা না করে আকবরকে ডেকে পিয়ন হিসেবে তার পরিবর্তে দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়। সেই থেকে রউফ সেজে আকবরই চাকরি করে আসছেন।
এর পেছনে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যদের অনিয়ম-দুর্নীতি অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রউফের এক ভাতিজা আবুল হোসনে বলেন, রউফ চাচাসহ আমার সব চাচাই ওই স্কুলে চাকরিতে ছিলেন এবং ১৮ বছর আগে রউফ চাচা মারা যান। ‘অথচ স্কুল কমিটি শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করেছে, এটা খুবই অসম্মানজনক।’

এ প্রসঙ্গে আকবর বলেন, ‘আমি শিক্ষিত মানুষ নই, আমি এত কিছু জানি না। গোলজার স্যার আমাকে কাজের সুযোগ দিয়েছে। তাই করছি। মাস গেলে বেতন দেয়। এতেই আমি খুশি।’

সাবেক প্রধান শিক্ষক গোলজার হোসেন বলেন, ‘আমার সময়ে ওই পদে রউফ বা আকবর কাউকেই নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এমন দুর্নীতির সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।’

বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক অসিত শিকদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘মেয়েটির বাবার মৌখিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শোকজ করা হয়েছে পিয়নকে।’ তাকে কেউ কেউ আকবর নামে ডাকলেও প্রকৃত নাম আব্দুর রউফ বিশ্বাস বলেই জানেন বলে দাবি করেন অসিত।

প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘এখানে মৃত কোনো ব্যক্তির হয়ে আরেকজন চাকরি করছে কি না, তা তো জানা নেই।’

বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবু সাইদ সানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘মৃত ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে অন্য কারো চাকরি করার খবরটি আমার জানা নেই।  এখন শোনার পর প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

October ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Sep    
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

October ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Sep    
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
%d bloggers like this: