মাগুরানিউজ.কমঃ
পাচারের শিকার মাগুরার দুই যুবক শাহীন ও ইমরান অবশেষে বাড়ি ফিরেছে। মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ তাদের বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেয়। তাদের বাড়ি সদর উপজেলার ডেফুলিয়া গ্রামে
এ ঘটনায় পাচারকারিদের বিরুদ্ধে আদলতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। পাচারকারিদের কবল থেকে ফিরে তারা পুলিশের কাছে ভিন্ন দুই দেশে দুই মাসের জীবন সংগ্রামের রোমহর্ষক বর্ণনা দেন।
পাচারের শিকার মাগুরার দুই যুবক শাহীন ও ইমরান ডেফুলিয়া গ্রামের নূর ইসলাম ও মফিজ শেখের ছেলে, তারা প্রতিবেশী দুলাল মোল্যার ছেলে ইমরান মোল্যার মাধ্যমে চার লাখ টাকার বিনিময়ে ভালো কাজের জন্য মালয়েশিয়া যান। শাহীন ও ইমরান সম্পর্কে মামাতো ভাই।
বাংলাদেশি দালালরা তাদের টেকনাফ নিয়ে সমুদ্রগামী একটি ট্রলারে তুলে দেয়। ট্রলারে তাদের মতো আরও ৪০ জন বিদেশগামি যুবক ছিল। ৪-৫ দিন ট্রলারে গভীর সমুদ্রে ভাসার পর জ্বালানি ও খাবার ফুরিয়ে গেলে তাদেরকে মিয়ানমারের উপকূলের জঙ্গলে নামিয়ে দিয়ে তেল-খাবার আনার কথা বলে চালক ও দালালরা পালিয়ে যায়।
এক পর্যায়ে তারা মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষীদের হাত থেকে বাঁচতে কয়েকটি ছোট দলে ভাগ হয়ে যায়। গভীর জঙ্গলে ৯ যুবক আশ্রয় নেয়। তাদের বাড়ি বাংলদেশের বিভিন্ন জায়গায়। জঙ্গলের গাছ পাচারকারিরা তাদের ধরে ফেলে।
এক বেলা সামান্য খাবারের বিনিময়ে তাদেরকে রাত দিন কাজ করতে হতো। একটু বিশ্রাম নিতে গেলেই তাদের ওপর নেমে আসত ভয়াবহ নির্যাতন। রাতে শেকল দিয়ে বেঁধে রাখা হতো।
এ অবস্থা দেড় মাস চলার পর তারা চার জন পালিয়ে আসতে সক্ষম হন। সেখানে আরও পাঁচ বাংলাদেশি রয়ে গেছে বলে তারা জানান। পরে তারা মিয়ানমারের জেলেদের ট্রলারে এক মাস কাজ করে দেওয়ার শর্তে দেশে ফিরতে সক্ষম হন। ২০-২৫ দিন কাজ করার পর মায়ানমারের জেলেরা সমুদ্রে বাংলদেশি জেলেদের ট্রলারে তুলে দেয়। পরে তাদের টেকনাফ উপকূলে নামিয়ে দেয় তারা।
এদিকে, শাহীন ও ইমরানের কোন খোঁজ না পাওয়ায় ইমরানের বাবা মফিজ শেখ বাদি হয়ে মাগুরা সদর থানায় চারজনকে আসামি করে মামলা করেন। পুলিশ রবিউল ইসলাম নামের এক যুবককে গ্রেফতার করে আগেই জেল হাজতে পাঠায়।
দুই মাসের বেশি সময় পর শাহীন ও ইমরান আজ মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশের সহায়তায় মাগুরা সদরের ডেফুলিয়ায় গ্রামের বাড়িতে ফিরতে সক্ষম হয়। তারা পুলিশের কাছে পাচারকারি ও তাদের দুইমাসের জীবন সংগ্রামের বর্ণনা দেন।
মাগুরার সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার সুদর্শন কুমার রায় মাগুরানিউজকে জানান, ‘মাগুরায় এই প্রথম পাচারের শিকার দুই যুবক বাড়ি ফিরল। এতে তাদের সহায়তায় পাচারের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।


