মাগুরানিউজ.কম:
দালালদের খপ্পরে পড়ে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে সাগরের মৃত্যুপুরী থেকে ১৫১ বাংলাদেশি বাড়ির পথে রওয়ানা করেছেন। সাগরে ভাসমান অবস্থায় গত ২১ ও ২৯ মে মিয়ানমারের নৌ বাহিনী তাদের উদ্ধার করে।
গত ২২ জুলাই মিয়ানমারের ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে এদের দেশে ফেরত আনার পর আইনী প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাদের বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমেদ জানান, ২২ জুলাই মিয়ানমার থেকে ফেরত আনার পর তাদের কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার ওখানে যাচাই বাছাই শেষে ৯ শিশুকে রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে অভিভাবকের কাছে ফেরত পাঠানো হয়। বাকী ১৫১ জনকে শুক্রবার ছেড়ে দেয়া হয়।
তবে তাদের কাছ থেকে ১৪ জেলার ৭০ দালালের নাম পাওয়া গেছে। ওইসব দালালদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলায় এজাহার পাঠানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
আটক মালয়েশিয়াগামীদের বাড়ি পৌঁছানোর সার্বিক ব্যবস্থা করেছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা। সংস্থাটির ন্যাশনাল প্রোগাম অফিসার আসিফ মুনীর বাংলামেইলকে জানান, ফেরত আসা বাংলাদেশিদের নিজি নিজ বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য সকল প্রকার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মিয়ানমারে উদ্ধার হওয়া লোকজনের মধ্যে আরও ১৫৯ জনকে আগামী ৩০ জুলাই ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে।
উল্লেখ, গত ২১ মে মিয়ানমারের জলসীমা থেকে সাগরে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ২০৮ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করে দেশটির নৌ বাহিনী। এদের মধ্যে যাচাই বাছাই শেষে প্রথম দফায় বাংলাদেশি হিসেবে সনাক্ত ১৫০ জনকে ৮ জুন এবং দ্বিতীয় দফায় ৩৭ জনকে ১৯ জুন ফেরত আনা হয়। এর মধ্যে ২৯ মে মিয়ানমারের জলসীমা থেকে দেশটির নৌ বাহিনী আরও ৭২৭ জনকে উদ্ধার করে।
তৃতীয় দফায় গত ২২ জুলাই ফেরত আনা হয় ১৬০ জনকে। এদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের ৪০ জন, সিরাজগঞ্জের ২৬ জন, ঝিনাইদহের ১৫ জন, মাদারীপুরের ১৫ জন, পাবনার ১২ জন, চুয়াডাঙ্গার ১১ জন, যশোরের ১০ জন, সুনামগঞ্জের আট জন, মাগুরার ছয় জন, কুমিল্লার ছয় জন, জয়পুহাটের পাঁচ জন ও সাতক্ষীরার দুই জন।


