মাগুরানিউজ.কম:
মাগুরায় টানা বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। ঈদের আগের দিন থেকে শুরু হয়ে রোববার বিকেল পর্যন্ত টানা দুই দিনের মৌসুমি বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। কাজ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া লোকজন।
পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টিতে শহরের কলেজপাড়া, কাউন্সিলপাড়া, সাহাপাড়া, নান্দুয়ালী, পারনান্দুয়ালী, ভিটাসাইরসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এসব এলাকার রাস্তাঘাট ডুবে গিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
মাগুরা কলেজ পাড়াতেই বিশ্বখ্যাত অলরাউন্ডার সাকিব-আল-হাসানের বাড়ি। বর্তমানে সাকিবের প্রতিবেশীদের দূর্ভোগ চরমে। পানি না পেরিয়ে এই এলাকায় ঢোকার কোন সুযোগই নেই।
মহম্মদপুর, শ্রীপুর ও শালিখা উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় জলাবদ্ধর কারণে লোকজন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
কৃষি বিভাগ জানায়, বৃষ্টিতে জেলার ৪ উপজেলায় ১১ হাজার ৮৫৫ হেক্টর জমির মধ্যে ৩১০ হেক্টর রোপা আমন, ১ হাজার ৫০০ হেক্টর আউশ, ৪৫০ হেক্টর বোনা আমন, ৭৫০ হেক্টর শাকসবজি ও ৩৮০ হেক্টর মরিচখেতের ক্ষতি হয়েছে।
অনেক এলাকায় ধানের ছোট চারা (পাতো) তলিয়ে গেছে। দু-এক দিনের মধ্যে বৃষ্টি থেমে পানি বের হয়ে না গেলে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
জেলা মৎস্য অফিস জানায়, টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার কারণে নিচু এলাকার বিল, পুকুর ও ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। এতে জেলার ১০ হাজার মাছচাষি ক্ষতির শিকার হয়েছেন। তবে নতুন পানি আসায় মাছচাষিদের জন্য সুখবর বলে জানা গেছে।
শালিখার কৃষকরা বলেন, টানা বৃষ্টিতে গ্রীষ্মকালীন সবজির গাছ মরে যাচ্ছে। এতে তারা চরম ক্ষতির শিকার হয়েছেন।
সদরের মাছচাষিরা বলেন, বৃষ্টিতে জলাশয়গুলো ভেসে গিয়ে মাছচাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনেকেই জাল দিয়ে মাছ ঠেকানোর চেষ্টা করছেন।
জেলা কৃষি অফিসার পার্থ প্রতিম সাহা জানান, টানা বৃষ্টিতে কৃষির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টি কমার পর দ্রুত পানি সরে না গেলে ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়বে বলে তিনি জানান।
মাগুরা পৌর মেয়র ইকবাল আকতার খান কাফুর জানান, জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মাগুরার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মুহ. মাহবুবর রহমান জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।


