মাগুরানিউজ.কমঃ
রাত পোহালেই বাঙালির চিরায়ত উৎসব পহেলা বৈশাখ। তবে বাংলা নববর্ষের এ সময়টি হচ্ছে রূপালী ইলিশের প্রজনন মওসুম। তাই এখন ইলিশ খাওয়া মানেই হচ্ছে প্রজনন ক্ষতিগ্রস্ত করা। তাই এ সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে পহেলা বৈশাখ উদযাপনে মাগুরাবাসীকে পান্তাভাতের সঙ্গে রূপালি ইলিশ না রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন ‘মাগুরানিউজ’ সম্পাদক রাজীব মিত্র জয়।
বার্তায় মাগুরাবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানানো হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে- ‘শুভ নববর্ষ ১৪২৩!” পহেলা বৈশাখের অতিথি আপ্যায়নে ইলিশ বর্জন করুন। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সুর সংগীতে বরণ করে নেয়া হবে বাংলা নতুন বছরকে। নববর্ষকে বরণ করে নিতে থাকবে আনন্দ শোভাযাত্রা আর মেলার আয়োজন। বর্ষবরণের এই আয়োজনে আপনারা সকলে আমন্ত্রিত।’
তিনি বলেন, ‘পান্তা-ইলিশ খেতে কাউকে নিষেধ করছি না, নিরুৎসাহিত করছি। অন্তত যদি এই একটি দিন ইলিশ বর্জন করতে পারি তাহলে দেশে ইলিশ উৎপাদন ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবে।’
প্রসঙ্গত, ইদানিং অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন নববর্ষে ইলিশ মাছ খাওয়া কতটা জরুরি? আর বাংলার ঐতিহহ্যের সাথে তার সম্পর্কই বা কতটা? গণমাধ্যমে এমন প্রশ্ন এখন আসছে প্রতিনিয়ত। বিশেষত, বাংলা নববর্ষের এ সময়টি যখন হয়ে পড়েছে রূপালী ইলিশের প্রজনন মওসুম। নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে ব্যাপকহারে ইলিশ ধরা হয়। এতে হঠাৎ করেই ইলিশের অতিরিক্ত চাহিদা বেড়ে যায়। বাজারেও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। সরবরাহ আর চাহিদার সঙ্গে অসামঞ্জস্য হওয়ার কারণে ইলিশের দাম বেড়ে যায় অকল্পনীয় ভাবে। যে কারণে অনেকেই চৈত্রের মাঝামাঝি থেকে ইলিশ সংগ্রহ করতে থাকেন ফ্রিজে। আর জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীরা পনেরো-বিশ দিন আগে থেকে মজুদ করতে থাকে হিমাগারে। কেউ কেউ ফরমালিন দিয়ে মাছ তাজা রাখার কৌশল বেছে নেন।
প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, এই ক্রাইসিস ও মরণপথ তৈরির প্রয়োজন আছে কি? এখনই তা বন্ধ করতে না পারলে কয়েক বছরের মধ্যে পহেলা বৈশাখের এই পান্তা ইলিশ সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়বে গ্রামাঞ্চলেও। ফলে ইলিশ সরবরাহ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। আর অশুভ প্রতিযোগিতা শুরু হবে ইলিশের বাজারে। ইলিশের প্রজনন মওসুম হওয়ায় পহেলা বৈশাখে ইলিশ বর্জন করে মাছ বাঁচানোর আহ্বান জানাচ্ছেন তারা। বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমগুলোতে বেশ ভালোভাবেই চলছে এমন প্রচারণা।
উল্লেখ্য, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নববর্ষ উৎসবে ইলিশ বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।


