মাগুরানিউজ.কম:
অবশেষে মায়ের আদর পেল মাতৃগর্ভে গুলিবিদ্ধ মাগুরার সেই শিশুটি। মাতৃদুগ্ধও পান করেছে সে। আধা ঘণ্টারও বেশি সময় মা নাজমার কোলে থেকে এখন আবারও হাসপাতালের নবজাতকদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) ঘুমোচ্ছে সে।
নাজমার কন্যার নাম রাখা হয়েছে ‘সুরাইয়া বেগম’।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে শিশুটির মা নাজমা বেগমকে তার ওয়ার্ড থেকে এনআইসিউতে আনা হয়। এরপর তার শিশুকন্যাকে কাঁচের ঘর থেকে তুলে কোলে দেওয়া হয়।
সুরাইয়াকে প্রায় আধা ঘণ্টা কোলে আগলে রাখেন নাজমা। এরপর দুগ্ধ পান করান। কিছু সময় পর সুরাইয়া ঘুমিয়ে গেলে তাকে আবারও কাঁচের ঘরে রেখে দেওয়া হয়। নাজমাকে ফিরিয়ে আনা হয় তার ওয়ার্ডে।
শিশু কন্যাকে কোলে নেওয়ার পর নাজমা আবেগাপ্লুত স্বরে বলেন, আমাকে যখন ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হলো, তখন কেমন লাগছিল বলতে পারবো না। দেখলাম ওকে কাঁচের ঘরে শুইয়ে রাখা হয়েছে। পরে একজন চিকিৎসক এসে আমার কোলে তুলে দেন।
তারপর ওকে নিয়ে চেয়ারে বসলাম। দেখলাম আমার মেয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। এরপর দুগ্ধ পান করাই। দুগ্ধ পানের কিছু সময় পরেই সুরাইয়া ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুমন্ত অবস্থায়ও আমার কোলে কিছুক্ষণ ছিল। পরে চিকিৎসকরা আবার তাকে কাঁচের ঘরে শুইয়ে দেন। আধা ঘণ্টারও বেশি সময় তাকে কোলে রাখতে পেরেছি।
নিজের ওয়ার্ডে ফিরে আসার পর নাজমা বেগম অনুরোধ করেন, তার মেয়ে সুরাইয়াকে যেন কেউ ‘বুলেট বেগম‘ না ডাকে। মঙ্গলবার এ অনুরোধ করেছিলেন সুরাইয়ার বাবা বাচ্চু ভূঁইয়া।
সুরাইয়ার তত্ত্বাবধানে থাকা ঢামেকের শিশু সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. কানিজ হাসিনা শিউলী মাগুরানিউজকে জানান, শিশুটিকে মায়ের আদর পাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। তার অবস্থা আগের চেয়ে অনেক ভালো আছে।
আগামী শনিবারের (৮ আগস্ট) মধ্যেই সুরাইয়াকে এনআইসিইউ ওয়ার্ড থেকে বের করে আনা যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


