মাগুরানিউজ.কমঃ
বিশেষ প্রতিবেদক-
কলকাতার ৬ তরুণ প্রেমের বার্তা নিয়ে সাইকেলে অক্ষরযাত্রায় কলকাতা থেকে ঢাকা। এই ৬ সাহসী তরুণের জন্যে রইল ‘মাগুরা নিউজ’র অনেক অনেক শুভেচ্ছা।
১৪ ফেব্রুয়ারি কলকাতা থেকে যাত্রা শুরু করে ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় পৌঁছবেন। ২১ ফেব্রুয়ারি বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠান। ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ স্মরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন কলকাতা থেকে ৩৩০ কিলোমিটার রাস্তা দুচাকায় পেরিয়ে ঢাকায় পৌঁছনো ছয় পশ্চিমবঙ্গীয় তরুণ।
যাত্রাপথে গতরাতে মাগুরায় রাতযাপন করে এই দলটি। আজ বুধবার সকালে তারা মাগুরা ত্যাগ করে ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এর আগে তারা মাগুরা সরকারি কলেজ শহীদ মিনারে এক মিনিট নিরবতা পালন করে শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন। যাত্রাপথে তারা প্রতিটি জেলার শহীদ মিনারগুলোতে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন বলে ‘মাগুরা নিউজ’কে জানান।
ওঁরা ছজনই হরেক পেশার মানুষ। ওঁদের বয়স ২৪ থেকে ৪৬ বছরের ভিতর।
ছয় তরুণের দলপতি চন্দন বিশ্বাস। অন্যরা হলেন অঙ্কুর বর্মন, রাহুল সেন, রজত সাহা, সুব্রত চ্যাটার্জি এবং রেন্সডেল ম্যানুয়েল। ম্যানুয়েল অবশ্য সাইকেলে না। ৩৩০ কিলোমিটার পথই তিনি টানা দৌড়ের মাধ্যমে অতিক্রম করছেন।
চন্দন বিশ্বাস বলেন, যাত্রার নাম রাখা হয়েছে, অক্ষরযাত্রা। অক্ষরযাত্রা ইয়োর স্টোরি আগমন বার্তা পৌঁছে দেবে বাংলাদেশের বাঙালির কাছে। ইয়োর স্টোরি বাংলার প্রধান হিন্দোল গোস্বামী অভিযাত্রীদের হাতে ইয়োর স্টোরির সুদৃশ্য একটি পতাকা তুলে দিয়েছেন। ওই পতাকা বাংলাদেশের মানুষের শুভেচ্ছাবার্তা আর সাক্ষর বয়ে নিয়ে যাবে ঐ বাংলায়।
এ দলের সবচেয়ে কম বয়সী সাইক্লিস্ট অঙ্কুর বর্মন। অঙ্কুর সাহসী মানুষ বলে নিজেকে মনে করেন। অঙ্কুরের কথায়, বুকে সাহস না জমাতে পারলে অভিযাত্রী হওয়া মানায় না। পথে কতই না ঝুঁকি! একাধিকবার পাহাড়ে গিয়েছেন। ওঁর ঝুলিতে হিমালয়ের আনাচে-কানাচে একাধিকবার অভিযানের অভিজ্ঞতা আছে ।
বলাবাহুল্য, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ভালোবাসার দিন আগুনঝরা ২১ শে ফেব্রুয়ারি। ওই দিনে এপারের ছয় তরুণ ঐতিহাসিক যন্ত্রণা নিয়ে কাঁটাতারকে উপেক্ষা করতে চলেছেন।
অক্ষরযাত্রা নিয়ে ‘মাগুরা নিউজ’ সম্পাদক রাজীব মিত্র জয় বলেন, কামনা রইল সারা পথে ওঁরা যেন সুস্থ থাকেন। এ কথা না বললেই নয়, বাঙালির জাতির দুটি দেশের ভিতর যে কাঁটাতারের বেড়া, তা বাঙালি মাত্রেরই যন্ত্রণার। কাঁটাতারের যন্ত্রণা তুচ্ছ করে সংস্কৃতিতে এবং ভ্রাতৃত্বে দুই বাংলার মানুষ মিলিত হবেন। এটাই আমাদের প্রেরণা।


