মাগুরানিউজ.কম:
ন্যাশনাল ডেস্ক- আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হলে মেয়র পদের জন্য ৪০০ এবং কাউন্সিলর পদের জন্য ৫০ জন ভোটারের সমর্থনযুক্ত তালিকা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে। এই শর্ত রেখে নির্বাচন বিধিমালা সংশোধন করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
আজ বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও চার নির্বাচন কমিশরার এ সংক্রান্ত খসড়া অনুমোদনের পর আজই তা ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে।
সংশোধনী বিধিমালায় প্রতি পৌরসভায় একটি রাজনৈতিক দলের এক লাখ টাকা করে ব্যয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। এতে করে কোনো নিবন্ধিত দল পৌর নির্বাচনে মেয়র বা কাউন্সিলর পদে প্রার্থী দিলে সব মিলিয়ে প্রতি পৌরসভায় এক লাখ টাকার বেশি ব্যয় করতে পারবে না।
এছাড়া কোনো দল ভোটের খরচ মেটাতে অনুদান নিলে ২০ হাজার টাকার বেশি চেক নিতে পারবে না। দলের ক্ষেত্রে এসব বিধি লঙ্ঘন হলে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা জরিমানারও বিধান রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে ইসির যুগ্ম-সচিব জেসমিন টুলী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে পৌরসভা নির্বাচনের বিধি সংশোধনের খসড়া তৈরি করেছি। নির্বাচনের বিধিমালা সংশোধনের খসড়া নিয়ে কমিশনাররা বৈঠকে বসেছেন। কমিশনে সংশোধিত বিধিমালা অনুমোদন পেলে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।’
তিনি জানান, প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয় বিদ্যমান বিধিমালায় ঠিক করে দেয়া আছে। এবার দলভিত্তিক ভোট হবে বলে দলীয় নির্বাচনী ব্যয়ের সীমা নির্ধারণ করে দেয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো স্থানীয় সরকারের পৌরসভা নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হচ্ছে। এজন্য বিধিমালায় প্রার্থীর যোগ্যতা-অযোগ্যতা নির্ধারণ, দল মনোনীত প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সংক্রান্ত সংশোধন, দলীয় ব্যয়, প্রচারণায় সরকারি সুবিধাভোগীর বিধি নিষেধ এসব সংশোধন আনছে কমিশন।
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী ডিসেম্বরেই পৌরসভা নির্বাচন সম্পন্ন করতে চায় সাংবিধানিক এ প্রতিষ্ঠানটি। এ উপলক্ষে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে তফসিল ঘোষণা দিতে বিধিমালার সংশোধন নিয়ে গতকাল রাত ৮টা পর্যন্ত কয়েক দফা বৈঠক করেছে ইসি।
ইসির তথ্য মতে, বর্তমানে সারাদেশে পৌরসভার সংখ্যা ৩২৩টি। এর মধ্যে ২০১১ সালে নির্বাচন উপযোগী ২৬৯টি পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিল সাবেক ড. শামসুল হুদা কমিশন। তবে এবার স্থানীয় সরকারের দেয়া তালিকা অনুযায়ী বর্তমানে ২৪৫টি নির্বাচন উপযোগী রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ডিসেম্বরেই পৌরসভা নির্বাচন করবে কমিশন।


