মাগুরানিউজ.কম:
হাত বাড়ালেই মিলছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ‘এনার্জি ড্রিংকস’। এসব ড্রিংকসের প্রতি তরুণ সমাজের আসক্তিও বাড়ছে। তবে এনার্জি ড্রিংকসের আড়ালে কী পান করছে তারা? মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৮টি কোম্পানির এনার্জি ড্রিংকসে ভায়াগ্রার উপাদান সিলডেনাফিল সাইট্রেটের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া কার্বোনেটেড বেভারেজ হিসেবে লাইসেন্স নেওয়া আরও ১২টি প্রতিষ্ঠানের ড্রিংকসে মাত্রাতিরিক্ত ক্যাফেইন ও ৪টিতে রয়েছে অতিরিক্ত অ্যালকোহল। দেশে বাজারজাত করতে বৈধভাবে কোনো প্রতিষ্ঠানকে ‘এনার্জি ড্রিংকস’ তৈরির নিবন্ধন দেয়নি কোনো সরকারি সংস্থা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনের পর দিন সিলডেনাফিল, অতিরিক্ত ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল মিশ্রিত তথাকথিত এনার্জি ড্রিংকস পান করার কারণে হৃদরোগের ঝুঁকি, গর্ভপাত, মারমুখী আচরণসহ মানবদেহে ও মনে নানা উপসর্গ বাড়ছে।
এ ব্যাপারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রধান রাসায়নিক কর্মকর্তা ড. দুলালকৃষ্ণ সাহা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ৪৮টি পৃথক কোম্পানির এনার্জি ড্রিংকসের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে। তার মধ্যে ১৮টি প্রতিষ্ঠানের এনার্জি ড্রিংকসে ভায়াগ্রার উপাদানের অস্তিত্ব ধরা পড়েছে।
কয়েকটিতে অতিরিক্ত মাত্রায় ক্যাফেইন পাওয়া গেছে। প্রতিবেশী ভারতসহ বিশ্বের অনেক দেশে এনার্জি ড্রিংকসে অনুমোদিত ক্যাফেইনের মাত্রা প্রতি লিটারে ১৪৫ মিলিগ্রাম। বাংলাদেশে কোনো কোনো কোম্পানির এনার্জি ড্রিংকসের মধ্যে প্রতি লিটারে ৩৩০ মিলিগ্রামের ওপর ক্যাফেইন পাওয়া গেছে।
কিছু এনার্জি ড্রিংকসের মধ্যে এর আগে ফেনসিডিলের উপাদান ‘অপিয়াটেস’ পাওয়া গেছে। কুটিরশিল্পের মতো এনার্জি ড্রিংকস তৈরি হচ্ছে। এর ক্ষতিকর দিকের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক করার বিকল্প নেই।

