মাগুরানিউজ.কম: আজ বিকালে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার পলাশবাড়িয়া ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া বাজারে দুই গ্রামবাসীর মধ্য ভয়াবহ সংর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দুই স্কুলছাত্রের হাতাহাতি কেন্দ্রকরে সংঘর্ষ চলাকালে বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও ভাংচুর চালানো হয়। আগুনে অন্তত পাঁচটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভষ্মীভূত হয়েছে। সংঘর্ষে কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছেন।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ৬৫ রাউণ্ড শটগানের গুলি নিক্ষেপ করেছে পুলিশ।
হামলায় গুরুতর আহত মানোয়ার (৪৫), মহম্মদপ আলী (৫০), সলেমান (৩৫), কবির (৩৫),দুখু (৩২),আলাউদ্দিন (৩০), ইমারত (৪৫), আকবর (৫৫), শাহাবুর (২০),মনিরুল (৪৫), ফয়সাল (১৯) ও আব্দুল করিমসহ (২৫) তেরো জনকে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তিকরা হয়েছে। এদের সবার বাড়ি ম-লগাতি গ্রামে। সংঘর্সে আহত রোনগর গ্রামের অন্তত ২০ জনকে পাশ্ববর্তী নড়াইলের লোহাগড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে তাদের স্বজনরা জানান। তবে তাদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।
সংঘর্ষ চলাকালে রোনগর গ্রামবাসি ম-লগাতির বাসিন্দা ডাঙ্গাপাড়া বাজারের ব্যবসায়িদের প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক হামলা-ভাংচুর লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। আগুনে ৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভষ্মীভূত হয়। আরও ৫ টি প্রতিষ্ঠানের মালপত্র লুট করে নিয়ে যায়। আগুনে বাশার মোল্যা, আব্দুর রহমান, গণি মোল্যা, ডা. আমিনুর রহমানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ভষ্মীভূত হয় বলে জানাগেছে।
মাগুরা থেকে দমকলের দুটি ইউনিট দেড়ঘন্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। আগুনে মুদি ঔষধ কাঠ ও ধান পাট ব্যবসায়িদের অন্তত ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানাগেছে।
সংঘর্ষে স্বপন খান, রাজিব মোল্যা ও আবুল শিকদারসহ ৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক হামলা-ভাংচুর ও লুটপাট করে প্রতিপক্ষের লোকজন।
আগুনের মধ্যে দোকানে থাকা পেট্রলের ড্রাম বিষ্ফোরণে অন্তত ছয়জন দগ্ধ হয়ে গুুরুতর জখম হয়েছেন। গুুরুতর আহত ইমান আলী (৪০), শফিকুল (৩০) ও সোহাগ (২০) কে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি তিন জনের নাম জানা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রনে আনার জন্য ৬৫ রাউ- শটগানের গুলি নিক্ষেপ করেছে বলে জানা গেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। গুলিতে আহতরা হলেন মনির (২৫), ছন্টু (৩৫),হেমায়েত (২৪) ও ফরহাদ (২৫)। এদের সবার বাড়ি রোনগর গ্রামে। বাকিদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। পুলিশের গ্রেফতারর এড়াতে আাহতরা অজ্ঞাত জায়গায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুনরায় সংঘর্ষেও আশঙ্কায় লোকজনকে নিরাপদ যায়গায় চলে যেতে দেখা গেছে। পুলিশ এই ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করলেও নাম বলতে রাজি হয়নি।
মাগুরার সহকারি পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম ও সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (সার্কেল) সূদর্শন কুমার রায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি।


