মাগুরানিউজ.কমঃ
রাজীব মিত্র জয় –
প্রকৃতিতে শীতের আবহ। চলে এসেছে অতিথি পাখির দল। রং-বেরংয়ের নানা প্রজাতির পরিযায়ী পাখির কিচির-মিচির ডাকে মুখরিত মাগুরার মহম্মদপুরের নহাটার ইছামতির বিল।
মাগুরা জেলার দক্ষিণাঞ্চলে রয়েছে হাজার বছরের পুরানো একটি বিরাট বিল। নাম ইছামতির বিল। ঐহিত্যবাহী এ বিলকে ঘিরে রয়েছে চমকপ্রদ এক গল্প যা সুপ্রাচীনকার থেকে লোকমুখে চলে আসছে। কিছু অলৌকিক বিষয়ের উল্লেখ থাকলেও স্থানীয় লোকজন সে গল্প বিশ্বাস করে।
এদিকে ইছামতি বিলের রয়েছে একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। এ বিলের মধ্যে রয়েছে ১১ একর আয়তন বিশিষ্ট একটি পুকুর। গরমকাল এবং বর্ষাকাল কোন মওসুমেই এখানে পানির উচ্চতার হরে ফের হয় না। সব সময় একটি নির্দিষ্ট স্তর পর্যন্ত পানি থেকে যায়।
ইছামতির বিলের আয়তন ৩৬ হাজার হেক্টর। এ বিল নবগঙ্গা ও মধুমতি নদীর দক্ষিণ পাশে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার নহাটা ও পলাশবাড়িয়া ইউনিয়ন এবং নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার নলদী, লাহুড়িয়া নোয়াগ্রাম, জয়পুর ও কালনা পর্যন্ত বিস্তৃত।
প্রতিবছর উত্তরের শীত প্রধান সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া ও নেপাল থেকে হাজার হাজার অতিথি পাখি বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে চলে আসে। মাগুরার কয়েকটি এলাকায় এরা ক্ষণস্থায়ী আবাস গড়ে, তার মধ্যে অন্যতম ইছামতির বিল। মূলতঃ অক্টোবরের শেষ ও নভেম্বরের প্রথম দিকেই এরা এখানে আসে। মার্চের শেষদিকে আবার ফিরে যায় আপন ঠিকানায়।
এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিরা জানান, ইছামতির বিল ছিল একসময় পাখির অভয়ারণ্য। শত শত বছর আগে থেকে এই বিলে পাখি আসছে। ইদানিং চাষ বাস, লোকসমাগম, বন্দুকধারী ও চোরা ফাঁদ শিকারিদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ায় গত কয়েক বছর ধরে পাখির সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে।
বিলের পাখি জরিপের কোন উদ্যোগ না নেওয়ায় পাখির প্রজাতি ও সঠিক পরিসংখ্যান সম্পর্কে জানা যায় না।
Like this:
Like Loading...