২১ আগস্ট। মাগুরার জঙ্গি খলিল জীবিত না মৃত!

মাগুরানিউজ.কমঃ

mn

২০০৪ সালের  ২১ আগস্ট বহুল আলোচিত গ্রেনেড হামলা মামলার চার্জশিটভূক্ত আসামি মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বেজড়া গ্রামের খলিলুর রহমান ওরফে খলিলের অন্তর্ধান রহস্য আজও উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ।

চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার পর এগারো বছর পার হয়ে গেলেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে না পারায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। খলিল জীবিত না মৃত তা নিয়ে পুলিশ ও তার পরিবারের মধ্যে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।

খলিলের বাবার দাবি সে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে আহত হয়ে মারা গেছে। পুলিশ ও এলাকাবাসীর সন্দেহ সে জীবিত।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সঙ্গে সম্পর্কিত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ইতিমধ্যে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এ পাঠানো হয়েছে। খলিল ধরা না পড়ায় এ মামলার অনেকটা রহস্যময়ই থেকে যাচ্ছে।

মহম্মদপুরের নহাটা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম বেজড়ায় জঙ্গি সদস্য খলিলের গ্রামের বাড়িতে সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় তার বাবা স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য সাইফুর রহমানের সঙ্গে।

সাইফুর রহমান জানান, তার ছেলে খলিল ২০০৬ সালের ৭ নভেম্বর দুপুর ১২টার দিকে বোমা বানানোর সময় নিজ ঘরে বিস্ফোরণে আহত হন। এ সময় সে নিজেই খরব দেয় খেলাফত মজলিস মাগুরা জেলা কমিটির সাবেক আমির মাওলানা মোকাদ্দেস হোসেনকে। তিনি একটি মাইক্রো নিয়ে এসে দ্রুত তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান।

এর দু’মাস পরে মওলানা মোকাদ্দেসের মাধ্যমেই জানতে পেরেছেন যে, গোপনে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় খলিল হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে কবে মারা গেছে। তবে বোমা বিস্ফোরণের পর পরই মওলানা মোকাদ্দেস তার আহত ছেলেকে নিয়ে কোথায় চিকিৎসা করিয়েছে কিংবা তার মৃত্যুর পর লাশই বা কোথায় দাফন করিয়েছে তা তিনি অদ্যাবধি জানেন না। খলিল মারা গেছে জেনেই তার স্ত্রী রত্নারও সম্প্রতি অন্যত্র বিয়ে হয়ে গেছে বলে জানালেন তিনি।

গোয়েন্দা সংস্থার বিভিন্ন সূত্র এবং এলাকাবাসী জানায়, মওলানা মোকাদ্দেস জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের শীর্ষ নেতা বর্তমানে কারাবন্দি মুফতি আবদুল হান্নানের মামাত ভগ্নিপতি। মূলত মুফতি হান্নান কারাবন্দি হওয়ার পর মওলানা মোকাদ্দেসের নেতৃত্বেই খেলাফত মজলিশের কর্মীরাই মাগুরা জেলায় হরকাতুল জিহাদের কার্যক্রম পরিচালনা করত।

মুফতি আবদুল হান্নান মাগুরা সদর উপজেলার মঘী গ্রামের আনসার আলী মোল্যার জামাই। এ এলাকায় শ্বশুরবাড়ি হওয়ার সুবাদে ১৯৯২ সালের পর থেকেই জেহাদি এজেন্ডাসহ সরাসরি আত্মপ্রকাশের পর পরই মাগুরার প্রত্যন্ত অঞ্চলে শক্ত ঘাঁটি তৈরিতে সক্ষম হয় এ জঙ্গি সংগঠনটি। মুফতি হান্নান গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে মওলানা মোকাদ্দেসের তত্ত্বাবধানেই হরকাতুল জিহাদের কার্যক্রম চলতে থাকে।

মওলানা মোকাদ্দেস ২০০৭ সালের ২৮ অক্টোবর র‌্যাব সদস্যদের হাতে আটক হন। এ সময় র‌্যাব সদস্যরা তার স্বীকরোক্তি মতে নহাটার খাড়ার বিলে মাটির নীচে পূঁতে রাখা দু’টি চাইনিজ রাইফেল, দু’টি শক্তিশালী বোমা, সেনাবাহিনীর দুই সেট ইউনিফর্ম এবং প্রচুর পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করে।

তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে পরিচালিত গ্রেনেড হামলার মামলায় ২০০৮ সালের ১১ জুন অভিযোগপত্র জমা দেন সিআইডি’র একজন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার। অভিযোগপত্রে খলিলসহ ২২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

খলিলকে মৃত বলা হলেও এই মৃত্যুকে রহস্যজনক বলেই মনে করেন এলাকার অনেকে। তাদের ধারণা খলিলকে পাওয়া গেলে আলোচিত গ্রেনেড হামলা মামলার অনেক অজানা রহস্য উদঘাটন হতো।

খলিল ২০০৪ সালে মাগুরার সিদ্দিকিয়া মাদ্রাসা থেকে কামিল পাশ করে। এই মাদ্রাসায় পড়ার সময় সে মাওলানা মোকাদ্দেসের সান্নিধ্যে আসে এবং খেলাফত মজলিশে যোগ দেয়। মাওলানা মোকাদ্দেসের উৎসাহে সে বোমা বানানোসহ নানা অবৈধ কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে এবং নিজ বাড়িতে বোমা বানানোর সময় বিস্ফোরণে তার একটি হাত এবং একটি চোখ নষ্ট হয়ে যায়। তারপর থেকে সে নিখোঁজ রয়েছে। এর আগে সে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় অংশ নেয় বলে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে।

মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ আতিয়ার রহমান বলেন, ‘খলিল জীবিত আছে গণ্য করেই পুলিশ তাকে ধরতে তৎপরতা চালাচ্ছে।’ খলিলের অন্তর্ধান রহস্য উদঘাটনে পুলিশ তৎপর রয়েছে। ওই এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। জঙ্গি সদস্য খলিল এলাকায় আসার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে গ্রেফতার করা হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

October ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Sep    
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

October ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Sep    
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
%d bloggers like this: