মাগুরানিউজ.কম: গোলাকৃতি ফলটির নাম জাম্বুরা। কেউ বলেন, ছোলম। ফলটি টক-মিষ্টি স্বাদের। সুপরিচিত দেশি এই ফলটি মাগুরাসহ দেশের প্রায় সর্বত্রই পাওয়া যায়।শুরুতেই গৌরচন্দ্রিকা ছাড়াই জাম্বুরার একটি অবহেলিত দিক বলে নিচ্ছি। যারা গ্রামে বড় হয়েছেন, গ্যাদাকালে তাদের কেউ কেউ ফুটবলের অভাব পূরণ করেছেন জাম্বুরা দিয়ে। তবে এখনও শিশুরা সুযোগ পেলে মাথায় জাম্বুরার খোলস দিয়ে বানানো টোপর চাপাতে ভুল করে না।
জাম্বুরা লেবু জাতীয় টক-মিষ্টি ফল। ইংরেজিতে পমেলো বা শ্যাডক নামে পরিচিত। ইংরেজি পমেলো শব্দটির ব্যুৎপত্তি সম্পর্কে ভাষাবিদরা একেবারেই নীরব। তবে সাধারণভাবে ধরে নেওয়া হয়, ইংরেজি অ্যাপল আর মেলন শব্দের মিলনে পমেলো শব্দটি তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের কোনো কোনো অঞ্চলে জাম্বুরাকে ‘বাদাম’ বা ‘করনেল’ নামেও ডাকা হয়। বাংলায় এটার আরেক নাম বাতাবি লেবু। জাম্বুরা শব্দটি বাংলায় এসেছে সংস্কৃত ‘জম্বির’ শব্দ থেকে। বাংলা একাডেমির অভিধানে তাই ‘জম্বুরা’ বানানটিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। উদ্ভিদবিদ্যার দিক থেকে জাম্বুরা আর আঙ্গুরফল খুবই ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। তারপরও এটা লেবু গোত্রীয় ফল। আর লেবুর মধ্যে জাম্বুরাই আকারে সবচেয়ে বড়।
ফলটিতে ক্যালরি কম থাকায় ডায়াবেটিস ও স্থুলকায়দের জন্য খুবই উপকারী। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফলটির দামও সাধ্যের মধ্যে। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে ফুলআসে আগস্ট-সেপ্টেম্বরে পাঁকা ফল পাওয়া যায়। সাদা ফুল সুগন্ধ ছড়ায়। একটিপূর্ণবয়স্ক গাছে ৩০০-৫০০ টি জাম্বুরা ধরে।
একটি জাম্বুরা স্থান ভেদে ১০টাকা থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। মাগুরার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোখলেছুর রহমান জানান, ‘মৌসুমি ফল হিসেবে জাম্বুরার সর্বত্র চাহিদা রয়েছে। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এইফল মাগুরাতে ব্যাপক জন্মে। তেমন কোন পরিচর্যা করতে হয়না। বসতবাড়ির আশপাশেঅনাদরে জন্মে এই গাছ। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে চাষ করেলাভবান হচ্ছেন। বিশেষ কিছু ফল বিভিন্ন মাধ্যমে ভারতসহ, সৌদিআরব, অষ্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাঠান স্বজনরা। আর দেশজুড়ে প্রতিদিন গাড়ি বোঝাই জাম্বুরা যাচ্ছে।

