মাগুরানিউজ.কম:
মাগুরা শহরের দোয়াপাড়ায় দলীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় যুবলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হওয়া শিশুটির কাছে যাচ্ছেন মা নাজমা বেগম। সঙ্গে বাবাও।
মাগুরার পুলিশ সুপার একেএম এহসান উল্লাহর উদ্যোগে বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশেষ ব্যবস্থায় মাগুরা থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন শিশুটির মা ও বাবা। পুলিশ সুপারের উদ্যোগেই গুলিবিদ্ধ হবার পরপরই শিশুটিকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
পুলিশ সুপার একেএম এহসান উল্লাহ ‘মাগুরানিউজ’কে জানান, মাকে শিশুটির প্রয়োজন। তাই তিনি উদ্যোগ নিয়ে মাকে ঢাকা পাঠিয়েছেন।
মাগুরা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক শফিউর রহমান ‘মাগুরানিউজ’কে জানান, নাজমা বেগম এখন কিছুটা সুস্থ। তিনি সন্তানের কাছে যাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে ছিলেন। মা সন্তানের কাছে যাওয়ায় সব দিক দিয়েই ভালো হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পুলিশ সুপারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শিশুটির বাবা বাচ্চু ভূঁইয়া ‘মাগুরানিউজ’কে বলেন, মেয়েকে পাঠানোর সময় একবার দেখেছিলেন। আর দেখেননি। পুলিশ সুপার উদ্যোগ নিয়েছেন বলেই তারা তাদের বাচ্চার কাছে যেতে পারছেন।
এর আগে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় সেই হতভাগ্য নবজাতক শিশুটির দেহে সফল অস্ত্রোপচার হয়। ৭ দিনেরও কম বয়সী স্বাভাবিক নবজাতকের তুলনায় কম ওজনের এ শিশুটির শরীরে মোট ২১টি সেলাই পড়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার মাগুরা শহরের দোয়াপাড়ায় (দোয়ারপাড়) দলীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় যুবলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে নাজমা আক্তার গুলিবিদ্ধ হন। ওই সময় আবদুল মোমিন ও মিরাজ হোসেন নামে আরো দুই জন গুলিবিদ্ধ হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবদুল মোমিন মারা যান। শনিবার রাতে মাগুরা সদর হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নাজমা নবজাতক মেয়ে শিশুর জন্ম দেন।
গত ২৬ জুলাই শিশুটিকে মাগুরা থেকে এনে ঢামেক হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়।
শিশুটি স্বাভাবিক ওজনের নবজাতকের চেয়ে কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করায় তাকে এখন মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো জরুরি বলে চিকিৎসকেরা মতামত দেন। কিন্তু শিশুটির মাও গুলিবিদ্ধ হয়ে মাগুরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তাকে বুকের দুধ খাওয়ানো সম্ভব হচ্ছিলো না।
বর্তমানে শিশুটির মা কিছুটা সুস্থ হওয়ায় তাকে চিকিৎসকেরা ঢাকা পাঠানোর অনুমতি দিয়েছেন।


