মাগুরানিউজ.কম:

অসময়ে দুনিয়ার আলো-বাতাস পাওয়া এবং দুর্ভাগ্যবশত দুনিয়ার নির্মমতার শিকার মাগুরার গুলিবিদ্ধ নাজমা কন্যাকে এতোদিন সম্বোধন করা হতো শিশু, বাচ্চা, বাবু, সোনামনি বলে। কিন্তু এখন ওর নাম ‘মরিয়ম’। আপন ফুফু শিউলি বেগমের রাখা এ নামেই ছয়দিন বয়সী এ শিশুকে এখন ডাকছেন স্বজনরা।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে শিশু সার্জারি বিভাগে মুখমণ্ডল বাদে তার সারাদেহ পুরু সাদা তুলা দিয়ে ঢেকে ছোট্ট বিছানায় শুইয়ে রাখা হয়েছে ‘মরিয়ম’কে। তুলার উপর ছড়ানো একটি রঙিন সুতির শাড়ি। ভূমিষ্ঠ হবার পর থেকে মা নাজমা বেগমের ছোঁয়া না পাওয়া মরিয়মের সঙ্গী হয়েছে মায়ের পরণের এই শাড়ি। ভূমিষ্ঠ হবার পর স্বাভাবিকভাবেই তার পাকস্থলিতে মায়ের বুকের দুধ যাবার কথা থাকলেও কোমল চামড়া সুচ দিয়ে ভেদ করে ক্রমাগত যাচ্ছে স্যালাইন।
এদিকে মাগুরার পুলিশ সুপার একেএম এহসান উল্লাহর উদ্যোগে বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশেষ ব্যবস্থায় মাগুরা থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন শিশুটির মা ও বাবা। পুলিশ সুপারের উদ্যোগেই গুলিবিদ্ধ হবার পরপরই শিশুটিকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
মাগুরা সদরের বাসিন্দা পেশায় চা দোকানদার বাচ্চু ও নাজমা দম্পত্তির তৃতীয় সন্তান মরিয়ম। তাদের বড় ছেলে সোহাগ আগামী বছর এসএসসি পরীক্ষা দেবে। দ্বিতীয় সন্তান সুমাইয়া পড়ছে তৃতীয় শ্রেণীতে। আপন ফুফু শিউলি বেগমের রাখা
নাম রাখার বিষয়ে ফুফু শিউলি বেগম মোবাইলে মাগুরানিউজকে বলেন, যেদিন হাসপাতালে আনা হইতাছিল। অয় আমার কোলেই আছিল। তখনই ভাবছিলাম ‘মরিয়ম’ নাম রাখার ব্যাপারে। আজকা থেইকা ওরে এই নামেই ডাকতাছি।
এসময় খুব আক্ষেপ করে মরিয়মের আরেক ফুফু শিখা বেগম বলেন, এই বাচ্চার জন্যি মায়ের দুধ, মায়ের পরশ লাগব। অর মা আসতাছে শুনছি। এবার মরিয়ম তারাতারি ভালো হয়ে উঠবি।

