মাগুরানিউজ.কম:
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বনগ্রাম কিষাণ মজদুর সম্মিলিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে ঘুষ দুর্নীতির অভিযোগে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা বুধবার দুপুরে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের অপসারণের দাবিতে স্কুল ঘেরাও করেছে। শতাধিক গ্রামবাসী দুপুর ১২ টা থেকে ২ টা পর্যন্ত টানা দুই ঘণ্টা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বনগ্রাম কিষাণ মজদুর সম্মিলিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস ও প্রধান শিক্ষক শংকর কুমার বিশ্বাস গত এক বছরে বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে অনৈতিকভাবে প্রায় ২৪ লাখ টাকা গ্রহণ পূর্বক চার শিক্ষককে নিয়োগ দিয়েছেন।
স্থানীয় গ্রামবাসীদের মধ্যে আবদুর রহমান, ইমদাদুর বিশ্বাস, রফিকুল ইসলাম, সাদেক হোসেন মুন্সী, নুরুজ্জামানসহ আরো অনেকে জানান, বিদ্যালয়ে হিন্দু ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৪০ জন ছাত্র-ছাত্রী থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু সেখানে হিন্দু ধর্মীয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ২৮ জন। তারপরও তারা ভর্তি ও হাজিরা খাতা জালিয়াতির মাধ্যমে অনৈতিকভাবে প্রায় আট লাখ টাকা নিয়ে হিন্দু ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে প্রমেশ কুমার সরকার নামে একজনকে নিয়োগ দিয়েছেন। এছাড়া, স্কুল আঙিনায় মসজিদ নির্মাণের কথা বলে প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১৫০ টাকা করে আদায় করা হলেও সেখানে মসজিদের কোনো কাজ করা হয়নি।
আর এ ঘটনার প্রতিবাদে গ্রামবাসীরা দুপুর ১২টার দিকে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস ও প্রধান শিক্ষক শংকর কুমার বিশ্বাসের অপসারণ দাবিতে স্কুল ঘেরাও করেন। বিদ্যালয়ে সভাপতি অনুপস্থিত থাকায় তারা প্রধান শিক্ষকসহ সকল শিক্ষক-কর্মচারিদেরকে দুই ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে অভিযুক্ত সভাপতিকে দুই দিনের মধ্যে জবাবদিহিতার জন্য স্কুলে হাজির করার দাবি জানিয়ে তারা ঘেরাও কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয়।
স্থানীয় গ্রামবাসীদের অভিযোগের বিষয়ে কথা বলার জন্য বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে প্রধান শিক্ষক শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে কোন ঘুষ নেয়া হয়নি। তবে বিদ্যালয়ের স্বার্থে অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য কিছু অর্থনৈতিক সাহায্য নেয়া হয়েছে। যা ওই কাজে অচিরেই ব্যবহার করা হবে।


