মাগুরানিউজ.কমঃ
দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচিত মাগুরার সেই ‘বৃদ্ধ শিশু’ বায়েজিদ এখন গুরুতর অসুস্থ। তার বয়স এখন প্রায় ৫ বছর আর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে নানা পরিবর্তনের সাথে বাড়ছে অসুস্থতাও। এমনটাই জানিয়েছেন বায়েজিদের বাবা লাভলু শিকদার।
‘বৃদ্ধ শিশু’ বায়োজিদের বাড়ি মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের খালিয়া উত্তর পাড়া গ্রামে।
স্থানীয় সাংবাদিকদের বায়েজিদের বাবা লাভলু শিকদার জানান, বায়েজিদ বর্তমানে প্রস্রাবে কষ্ট হচ্ছে। এ ছাড়া সর্দি, কাশি এবং প্রচন্ড শ্বাস-কষ্টসহ নানা ধরণের জটিলতায় ভূগছে। দারিদ্রতার কারণে তার পক্ষে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। শিশুটির চিকিৎসা চালিয়ে যেতে তিনি সবার সহযোগিতা চেয়েছেন।
২০১২ সালের মে মাসে মাগুরা মাতৃসদন হাসপাতালে তৃপ্তি খাতুন বৃদ্ধ মানুষের চেহারা সম্বলিত বায়েজিদের জন্ম দেন। দিনে দিনে বায়েজিদের শরীরে বার্ধক্যের ছাপ আরো প্রকট হতে থাকে। জন্মের তিন মাসের মধ্যেই তার দাঁত ওঠে। জন্মের পর বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসকদের স্মরণাপন্ন হলেও স্বাভাবিক চেহারায় ফিরে আসেনি শিশুটি।
এরপর ২০১৬ সালের মে মাসে মাগুরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত ৫ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড জানায় বায়োজিদ বিরল প্রজেরিয়া রোগে আক্রান্ত। মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সে সময় বায়েজিদকে তারা উন্নত চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করেন। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও দেড় মাস ধরে চিকিৎসার পর কোন ফল না পেয়ে বাবা লাবলু শিকদার বায়েজিদকে নিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, প্রজেরিয়া রোগটি একটি বিরল জেনেটিক অসঙ্গতি। এক কোটি শিশুর মধ্যে এই রোগে আক্রান্ত একজন শিশুর অস্তিত্ব পাওয়া যেতে পারে। পৃথিবীতে এ পর্যন্ত প্রজেরিয়া রোগে আক্রান্ত ১০০টির মতো রোগী শনাক্ত হয়েছে।


