মাগুরানিউজ.কম:
পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের কথা সকলের জানা। কিন্তু অষ্টম আশ্চর্যের সৌন্দর্য এতকাল গোপনেই থেকে গিয়েছিল।
দীর্ঘ দিনের গবেষণার পর নিউজিল্যান্ডে ‘বিশ্বের অষ্টম আশ্চর্যের’ সন্ধান পাওয়া গেছে। গবেষকরা এই দাবি করেছেন। দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় দ্বীপের লেক রোটোমাহানার সাদা ও গোলাপি বর্ণের বিধ্বস্ত ভবনসারি বিশ্বের আশ্চর্য বস্তুর তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।
অষ্টাদশ শতক থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য পর্যটক এখানে ভ্রমণ করতে আসতেন। ১৮৮৬ সালে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে এটি ধ্বংস হয়ে যায়। সে সময়কার সরকার বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখেনি এবং স্থানটির উচ্চতা বা দৈর্ঘ্য-প্রস্থ সম্পর্কেও কোনো লিখিত নথিপত্র রাখা হয়নি।
তবে ২০১০ সালে সুইস সংগ্রহশালায় দীর্ঘ দিন আগে হারিয়ে যাওয়া ভূতাত্ত্বিকের ডায়রিগুলো পাওয়ার পর গবেষকরা ৩৫ মিটার এলাকার মধ্যে এর অবস্থান শনাক্ত করতে গবেষণা শুরু করার সুযোগ পান।
গবেষকদের একজন রেক্স বান সম্প্রতি স্টার টাইমস পত্রিকাকে বলেছেন, আমরা গত ১২ মাসে দুই হাজার ৫০০ ঘণ্টা গবেষণা করেছি। তিনি বলেন, আমাদের বিশ্বাস আমরা স্থানটির অবস্থান চিহ্নিত করতে পেরেছি। ১৩০ বছর আগে পর্যন্ত এর অস্তিত্ব সম্পর্কে কারো কোনো ধারণা ছিল না।
সুইস শহর বাসেলে হচশেটার সংগ্রহশালায় ড. সাশ্চা নলডেন ডায়েরিটি পান। এটি ড. ফার্দিনান্দ ভন হচশেটারের ডায়েরি। তিনি একজন বিখ্যাত ভূতাত্ত্বিক এবং ১৮৫৯ সালে নিউজিল্যান্ড সরকার দ্বীপপুঞ্জের জরিপের কাজে তাকে নিয়োগ করেছিল। তিনি সেখানকার ভবনগুলোর অবস্থান রেকর্ড করেছিলেন।
তবে এর ২৭ বছর পরে তারওয়েরা পর্বতের আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের পর এলাকাটির অবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটায় ২০০০ একর আয়তনের লেকের ওই এলাকাটি আর কখনো সরকারিভাবে জরিপ করা হয়নি।
ডায়েরি পাওয়ার পর গবেষকরা তা অনুবাদ ও ব্যাখ্যা করার পর গবেষণার কাজ শুরু হয়। গবেষকরা বিভিন্নভাবে গবেষণা চালানোর পর নিউজিল্যান্ডের জার্নাল অব দ্য রয়াল সোসাইটি অব নিউজিল্যান্ডে তা প্রকাশিত হয়। অগ্ন্যুৎপাতের ফলে ওই নিদর্শনগুলো লেকের ধারে অন্তত ১০ মিটার মাটির নীচে চাপা পড়ে যায়।


