মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরা জেলার শ্রেষ্ঠ ইঁদুর নিধনকারি হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার আমতৈল গ্রামের কৃষক জুবান আলী বিশ্বাস। তিনি ওই গ্রামের কুরণ বিশ্বাসের ছেলে। জুবান আলী প্রায় ৪ হাজার ইঁদুর নিধন করে এ পুরস্কার লাভ করেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর অঞ্চল, কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জুবান আলীকে মাগুরা জেলার সেরা ইঁদুর নিধনকারী হিসেবে এ পুরস্কার দেয়া হয়।
কৃষক জুবান আলী বিশ্বাস জানান, আমতৈল ব্লকের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা ফরিদ আহম্মেদ তাকে ইঁদুর নিধনে উৎসাহিত করেন। কৃষি কর্মকর্তা তাকে জানান, ইঁদুর ধানের ব্যাপক ক্ষতি করে। ইঁদুর নিজে যা খায় তার চেয়ে ১০ গুণ খাদ্য নষ্ট করে। এ ছাড়া ইঁদুর বিভিন্ন ধরনের রোগ ছড়ায়। ইঁদুর নিধনের কৌশল বিষয়ে তাকে প্রশিক্ষণ দেন। কিভাবে ইঁদুর ধরা যায়। কোথায় ইঁদুর পাওয়া যায় এবং কিভাবে মারতে হয়। কৃষি কর্মকতার কাছ থেকে এসব বিষয়ে জেনে তিনি ইঁদুর নিধনের কাজ শুরু করেন। এবং এক মাসে (২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত) প্রায় ৪ হাজার ইঁদুর নিধন করেন। ইঁদুর ধরার জন্য বিশেষ কোন যন্ত্র ব্যবহার না করে এ কাজে তিনি ব্যবহার করেছেন মাছ ধরার জন্য ব্যবহৃত লোহার সিকের তৈরি খুরকুচি/কোচ ও কোদাল।
জুবান আলী জানান, তার নিজেস্ব ৩ বিঘা জমিতে একটি অগভীর নলকূপ আছে, যা দিয়ে তিনি নিজের জমির পাশাপাশি অন্যের জমিতে সেচ দেন। এ কারণে তাকে মাঠেই রাত কাটাতে হয়। রাতে তিনি জমিতে সেচ দেয়ার পাশপাশি ইঁদুর নিধনের কাজ করেছেন।
এ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার পেয়ে খুশি হওয়ার পাশাপাশি জুবান আলী এ বছর আরো বেশি ইঁদুর নিধন করে জাতীয় পর্যায়ে সেরা হওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জনান।
উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা ফরিদ আহম্মেদ জানান, ইঁদুর ধানসহ অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধনের পাশপাশি গাছের ফল নষ্ট করে এবং বাসা-বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি করে থাকে। এ কারণে প্রতি বছর সরকারিভাবে ইঁদুর নিধন অভিযান পরিচালিত হয়। এর অংশ হিসেবে কৃষি বিভাগ জেলার কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষকে প্রশিক্ষণ দেন। এ বিষয়ে তিনি শ্রীপুরের আমতৈল ব্লকের কৃষক জুবান আলীসহ অন্যান্য কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেন। এদের মধ্যে কৃষক জুবান আলী ইঁদুর নিধন করে জেলায় শ্রেষ্ঠ হন।
শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুব্রত কুমার চক্রবর্তী জানান, ইঁদুরের কারণে প্রতি বছর দেশে ১০-১২ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য নষ্ট হয়। মাগুরায় গত বছর ইঁদুর নিধনের সংখ্যা ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪১৮টি। এ কারণে প্রায় ১ হাজার ১৫০ মেট্রিক টন আমন ফসল রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। এলক্ষ্যে এ পর্যন্ত জেলায় ১২০ জন কৃষি কর্মী, ৩১ হাজার ৯০০ কৃষক-কৃষাণী ও ৩৭ হাজার ৭৬৫ জন ছাত্র-ছাত্রীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মধ্যে কৃষক জুবান আলী প্রায় ৪ হাজার ইঁদুর নিধন করে আঞ্চলিকভাবে জেলার শ্রেষ্ঠ ইঁদুর নিধনকারির পুরস্কার পেয়েছেন।


