মাগুরায় চাষ হচ্ছে প্যাশন

মাগুরানিউজ.কমঃ

KSJDH-1416811408

দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল, ফিলিপাইনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উৎপাদিত প্যাশন ফল এখন মাগুরায় চাষ হচ্ছে। তবে এই ফল মাগুরায় স্থানীয়ভাবে ট্যাং ফল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

মাগুরা সদরের হাজীপুর ইউনিয়নের হাজীপুর গ্রামের তরিকুল ইসলাম ও জাহিদুল ইসলাম দুই ভাই। তারা তাদের পৈতৃক বাড়িতে দুই বছর আগে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করেছেন এ ফলটির। মাত্র দুটি চারা থেকে প্রথম বছরেই ফল ধরে।

একটি বাঁশের মাচার ওপর ছেয়ে থাকা প্যাশন ফলের গাছ। এ বছর আরো বিস্তৃত আকার ধারণ করেছে। গোটা গাছে শোভা পাওয়া এ প্যাশন ফল ইতিমধ্যেই পাকতে শুরু করেছে। পাকা ফল থেকে অতি সহজেই তৈরি হচ্ছে সুস্বাদু শরবত। যা স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয়। খেতে একদম ট্যাংয়ের মতো। এ জন্য এলাকাবাসী এ ফলটির নাম দিয়েছে ট্যাং ফল।

পাকার পর ঝুড়িতে তুলে রাখা প্যাশন ফল পাকার পর ঝুড়িতে তুলে রাখা প্যাশন ফল  পাকার পর ঝুড়িতে তুলে রাখা প্যাশন ফল  
পাকার পর ঝুড়িতে তুলে রাখা প্যাশন ফল

তরিকুল ও জাহিদুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, উঠানের এক পাশে একটি বাঁশের মাচায় শিম, বরবটির মতো জাল আকৃতিতে বিস্তৃত হয়ে আছে প্যাশন গাছ। যেখানে কমলা লেবুর মতো আকৃতির ট্যাং ফল থোকায় থোকায় শোভা পাচ্ছে।

জাহিদুল ইসলাম জানান, পর পর দুই বছরের সাফল্যের পর উদ্বুদ্ধ হয়ে তারা এ বছর থেকেই চারা উৎপাদনের কাজ হাত নেবেন। নিজেদের প্রতিষ্ঠান হুরি হাট এগ্রো সিড লিমিটেডের মাধ্যমে তা গোটা জেলায় ছড়িয়ে দেবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন।

তিনি আরো জানান, ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে তারা প্যাশন চাষে আগ্রহী হন। পরে ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আব্দুর রহিমের কাছ থেকে চারা এনে চাষ শুরু করে প্রথম বছরেই সফলতা পান।

জাহিদুল ইসলাম জানান, প্যাশন বা ট্যাং চাষে কোনো সার, সেচ, কীটনাশক এমনকি পরিচর্যারও প্রয়োজন হয় না। শুধু শিম বা লাউ-কুমড়া গাছের মতো মাটিতে চারা লাগানোর পর তা বড় হলে বাঁশের মাচায় অথবা কোনো বড় গাছে উঠিয়ে দিলেই হয়। বছরের বার মাসে যেকোনো ঋতুতেই এ ফল চাষ করা যায়। তবে জুন-জুলাই মাসে চারা লাগালে ভালো ফল পাওয়া যায়। চারা লাগানোর ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যেই গাছ থেকে ফল তোলা যায়। 

জাহিদুল ইসলামের মতে, বাজারে প্রচলিত কেমিক্যাল মিশ্রিত শরবতের চেয়ে প্যাশন বা ট্যাং ফল দিয়ে তৈরি শরবত অনেক বেশি সুস্বাদু ও প্রাকৃতিক গুণসম্পন্ন। ট্যাং শরবত খেলে মানুষের শরীরের ক্ষতিকারক কোলেস্টরেল কমে এবং দ্রুত ক্লান্তি দূর হয়। পাশাপাশি চর্মরোগ থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

October ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Sep    
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

October ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Sep    
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
%d bloggers like this: