মাগুরানিউজ.কমঃ
১৬ বছর পর পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়। প্রথম ম্যাচটিতে জিতে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা। তাই এখন সিরিজ জয়ের দিকেই দৃষ্টি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের।
পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ জয়ের পর সেভাবে উদযাপন করতে দেখা যায়নি। আগে থেকেই সবাই যেন জানতো, জয় পাবে। অনেকটা সহজভাবেই জয় ধরা দেওয়ায় বাংলাদেশ সেভাবে আনন্দ-উল্লাসেও মাতেনি। তবে সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে প্রশ্ন উঠতেই সাকিব বলেন, ‘না, আমরা অনেক কষ্ট করেই ম্যাচ জিতেছি। এ জয়টা অবশ্যই অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ১৬ বছর ধরে তিন ফরম্যাটের কোনটিতেই আমরা পাকিস্তানকে হারাতে পারিনি। এটা অনেক দীর্ঘ সময়। যেভাবে খেলেছি তাতে আমরা খুশি। আমরা একটি দল হিসেবে খেলেছি। যেভাবে ব্যাটিং করেছি তাতে পেশাদারিত্ব ছিল। এছাড়া যেভাবে বোলিং ও ফিল্ডিং করেছি, দুটোই বেশ ভালো হয়েছে। আমরা বেশ খুশি।’
প্রথম ম্যাচটা জয়ের পর এখন বাংলাদেশের লক্ষ্য ওয়ানডে সিরিজে। এ বিষয়ে সাকিব বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সামনের দুটি ম্যাচ। দ্বিতীয়টা পরশু দিন। আমরা চেষ্টা করবো ওই ম্যাচটি জিততে। আমরা যদি ওটা জিততে পারি তাহলে অবশ্যই চেষ্টা করবো শেষ ম্যাচটি জিততে। আমাদের প্রথম টার্গেট সিরিজ জয়। প্রথম ম্যাচ জয়ের কারণে এগিয়ে আছি। এখন দ্বিতীয় ম্যাচটি জিততে হবে। তারপর শেষ ম্যাচের কথা চিন্তা করবো। যদি দ্বিতীয় ম্যাচে না হয় তাহলে তৃতীয় ম্যাচে সিরিজ জিততে হবে আমাদের। আর দ্বিতীয় ম্যাচে জয় পেলে ৩-০ ব্যবধানের কথা চিন্তা করবো।’
বামহাতি ওপেনার তামিম ইকবালের পারফরম্যান্সের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা ঝরলো সাকিবের মুখ থেকে, ‘ও (তামিম) যেভাবে ইনিংসটি খেলেছে, সেটা অসাধারণ ছিল। সত্যি কথা বলতে, ও একটু প্রেসারেই ছিল, কিন্তু ওর ব্যাটিং দেখে এরকম একটুও মনে হয়নি। এটা অন্যতম সেরা একটি ইনিংস অবশ্যই।’
পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ে অনেক দিনের আক্ষেপ ঘুচিয়েছে বাংলাদেশ। আগে কয়েকটি ম্যাচে জয়ের কাছাকাছি এলেও সেটি না পাওয়া শুক্রবার জয়ের জন্য মরিয়া ছিলেন সাকিবরা, ‘জিততে না পারলে তো আক্ষেপ থাকেই। তাদের বিপক্ষে ৩-৪টা ম্যাচ ক্লোজ ছিল। কিন্তু ফলাফল আমাদের পক্ষে আসেনি। আমরা জয়ের জন্য উদগ্রিব ছিলাম।’
সাতজন ব্যাটসম্যান ও চারজন বোলার নিয়ে খেলেছেন সাকিব। বোলার ব্যবহারের ক্ষেত্রে খুব হিসেবি ছিলেন তিনি। দু’জনকে ব্যবহারই করেননি। কারণ ব্যাখ্যা করেছেন সাকিব। তিনি বলেন, ‘সাতজন ব্যাটসম্যানই নয় শুধু, হাতে বোলারও অনেক ছিল। আমার মনে হয় আরও দুজন বোলার ছিল, যাদেরকে দিয়ে বোলিং করাইনি। এটা একদিক থেকে খুবই ভালো যে, অধিনায়ক হিসেবে আপনার কাছে অনেক অপশন থাকবে। আপনি প্রয়োজন অনুসারে ইচ্ছামত বোলিং পরিবর্তন করতে পারেন। একদিন একটা বোলারের খারাপ যেতে পারে। যেহেতু অপশন আছে তাই তাদেরকে ব্যবহারও করা যায়। এটা ভালো দিক যে সব দিক থেকে আমরা এখন খুব ভালো একটা দলে পরিণত হয়েছি। এই বিশ্বাসটা আছে এবং আগামীতে এই বিশ্বাসটা ধরে রাখতে পারবো। এই সিরিজ তো অবশ্যই, সঙ্গে পুরো বছরটিতে ধারাবাহিক থাকতে পারবো।’


