সরষে ফুলের দিন শুরু…

মাগুরানিউজ.কমঃ

10409066_765233150223873_8396354296719852238_n
মাগুরায় উচ্চ ফলনশীল বারি-১৪ ও বারি-১৫ জাতের সরিষার আবাদ কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। মৌসুমের শুরুতে কৃষি বিভাগ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত এ দুটি অধিক ফলনশীল সরিষা আবাদে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে। নতুন উচ্চ ফলনশীল সরিষা আবাদে আশানুরূপ ফলন পাওয়া গেছে। এতে সরিষা আবাদে কৃষকের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ফিরে আসবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।
আবহাওয়া অনুকূল থাকায় চলতি মৌসুমে জেলায় সরিষার বাম্পার ফলন আশা করছেন কৃষকেরা। প্রথমদিকে বপন করা সরিষা কেটে ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলার সদর, শ্রীপুর, শালিখা ও মহম্মদপুর উপজেলায় ১২ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। লাভজনক ও অনুকূল আবহাওয়া থাকায় লক্ষ্যমাত্রার বেশি জমিতে এবার সরিষার আবাদ হয়েছে। এ বছর জেলায় নয় কোটি টাকা মূল্যের ১৫ হাজার টন সরিষা উৎপাদিত হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ। সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে সহস্রাধিক কৃষক বাড়তি আয় করছেন।

সূত্র জানায়, ফলন কমে যাওয়া, উৎপাদনের জন্য বেশি সময় লাগার কারণে দিন দিন এ এলাকার কৃষকেরা সরিষা চাষে উৎসাহ হারাচ্ছিলেন। সাধারণত কৃষকেরা স্থানীয় জাতের পাশাপাশি বারি-৯ ও টোরি-৭ জাতের সরিষার আবাদই বেশি করতেন। কম ফলন ও সময় বেশি লাগায় অলাভজনক হওয়ায় কৃষক সরিষার আবাদ মাত্রাতিরিক্ত কমিয়ে দেন। চলতি মৌসুমের শুরুতে কৃষি বিভাগ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত অধিক ফলনশীল জাতের বারি-১৪ ও বারি-১৫ সরিষা আবাদে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে। নতুন উচ্চ ফলনশীল সরিষা আবাদে আশানুরূপ ফল পাওয়া গেছে। এতে সরিষা আবাদে কৃষকের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ফিরে আসবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ। নতুন এ দুটি জাতের সরিষা মাত্র ৭৫-৮০ দিনে ঘরে তোলা যায়। হেক্টরে ফলন হয় দেড় হাজার কেজি। সরিষা কেটে ওই জমিতেই আবার বোরোর আবাদ করা যায়। এতে কৃষিজমির সর্বাধিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়।

সরেজমিন দেখা গেছে, মাঠে মাঠে কৃষক সরিষা কর্তনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এবার সরিষার ভালো ফলন পেয়ে কৃষকেরা খুশি। জেলার বিভিন্ন হাটবাজারে নতুন সরিষা উঠতে শুরু করেছে। ভোজ্যতেলের ব্যাপক চাহিদা ও বাজার চড়া থাকায় সরিষার ভালো দাম পাচ্ছেন কৃষক। প্রতি মণ ভেজা সরিষা এক হাজার ৩০০ টাকা থেকে এক হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মহম্মদপুর উপজেলার বালিদিয়া গ্রামের কৃষক ফিরোজ আহম্মেদ ও আহাদ মোল্যা বলেন, বারি-১৪, ১৫ জাতের উচ্চ ফলনশীল সরিষা কৃষকদের মধ্যে সাড়া জাগিয়েছে। এতে কৃষক আবার সরিষা আবাদে ফিরে আসছেন। নিখোড়হাটা গ্রামের সরিষাচাষি আবুল মিয়া ও লক্ষ্মীপুর গ্রামের মনিরুল  ইসলাম বলেন, দেশি জাতের সরিষা আবাদ করে একরে সর্বোচ্চ ৮-১০ মণ ফলন পাওয়া যেত। এখন উন্নত জাতের সরিষায় ফলন পাওয়া যাচ্ছে ১৩-১৪ মণ।

সদর উপজেলার কেচুয়াডুবি গ্রামের কৃষক সেলিম শেখ ও বেরইল পলিতার আনারুল বিশ্বাস চলতি মৌসুমে কৃষি বিভাগের সহায়তায় ৬০ শতক জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের বারি-৯ সরিষার প্রদর্র্শনী তে করেছেন। যা থেকে থেকে উভয় কৃষক প্রায় ১০ মণ সরিষা পাবেন বলে আশা করছেন।

সদর উপজেলার আঙ্গারদহ গ্রামের কৃষক নির্মল কুমার শিকদার চার একর জমিতে বিনা-৪ জাতের সরিষা লাগিয়েছেন। সেখান থেকে তিনি প্রায় প্রায় ৯০ মণ সরিষা ঘরে তুলতে পারবেন বলে আশা করছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক মোখলেছুর রহমান বলেন, বারি-১৪ এ এলাকায় গত মৌসুম থেকে চাষ শুরু হয়েছে। চলতি মৌসুম থেকে বারি-১৫ উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষার পরীক্ষামূলক চাষ শুরু হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় নতুন এই জাত সম্পর্কে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

September ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Aug    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

September ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Aug    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
%d bloggers like this: