মহসিন মোল্যা, বিশেষ প্রতিবেদক-
শ্রীপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান ও তার লোকজন কর্তৃক তিন নির্বাচিত ইউপি সদস্যকে মারধরের প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। বিক্ষোভ মিছিলটি শ্রীপুর সরকারি কলেজ মোড় থেকে শুরু হয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে মানববন্ধন করে।
পরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী আহত তিন ইউপি সদস্যের পক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. মমতাজ মহলের নিকট স্মারক লিপি প্রদান করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিক্ষুদ্ধ ইউপি সদস্য ও এলাকাবাসীর বক্তব্য শোনেন এবং অচিরেই এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেন। এ সময় শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ তাসমীম আলম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ভূক্তভোগী তিন ইউপি সদস্য পৃথক পৃথক স্মারকলিপিতে উল্লেখ্য করেন, নির্বাচিত হওয়ার আড়াই বছর পার হলেও তাদেরকে ইউনিয়ন পরিষদে ঢুকতে দেওয়া হয় না। এর আগে সাবেক এমপি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও তার কোনো ফল পাননি তারা। গত বুধবার দুপুরে ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাউল তাদের মাধ্যমে জনগণকে দেওয়ার কথা বলতে মদনপুর ওয়ার্ডের আব্দুল আলিম, খড়িবাড়িয়া ওয়ার্ডের আব্দুল মজিদ এবং তখলপুর ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য মকবুল হোসেন পরিষদে যান। তারা সরকারের বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে তাদের বরাদ্দ তাদের দিয়ে বন্টনের প্রস্তাব দেন। এতোদিন এই তিন নির্বাচিত প্রতিনিধিকে বাদ দিয়ে চেয়ারম্যানের পছন্দের লোক দিয়ে মদনপুর ওয়ার্ডে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি বাবলু মিয়া, খড়িবাড়িয়া ওয়ার্ডের পরাজিত প্রার্থী আব্দুল মতিন ও তখলপুর ওয়ার্ডের পরাজিত প্রার্থী কাজী আব্দুর রউফকে দিয়ে করিয়ে আসছেন। এতে চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত হয়ে প্রথমে আব্দুল আলীমকে কিল ঘুষি মারতে শুরু করেন। এ সময় চেয়ারম্যানের কক্ষে থাকা তার অনুসারী বুলেট, চৌকিদার আকিদুলসহ ১৫ থেকে ২০ জন হকস্টিক, লোহার রড় দিয়ে তাদের তিনজনকে মারধর করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাদেরকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে ইউপি সদস্য আবদুল আলিম ও আবদুল মজিদ সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. মমতাজ মহল বলেন, তিনজন ইউপি সদস্যের পৃথক তিনটি আবেদন পেয়েছেন। শ্রীপুর সদর ইউনিয়নে এমন একটি ঘটনা ঘটছে তা তার জানা ছিল না। উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে আলোচনার মাধ্যমে অচিরেই এ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি।

