লালনের ফরিদা পারভীন, শুরুটা যার মাগুরায়

মাগুরানিউজ.কমঃ

download

ফরিদা পারভীন- নিজের নামই যার পরিচয়। লালন ফকিরের গানকে তিনি শুধু তুমুল জনপ্রিয়ই করে তোলেননি, লালনের গানকে দেশের বাইরে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি রেখেছেন অসামান্য ভূমিকা।

ফরিদা পারভীনের গানের হাতেখড়ি মাগুরায় ওস্তাদ অমল চক্রবর্তীর হাতে। বাবা প্রয়াত দেলোয়ার হোসেন পেশায় সরকারী চিকিৎসক ছিলেন। আর তার নানা স্থানে বদলীর চাকুরীর সুবাদে বিভিন্ন জেলার মানুষের সঙ্গ পেয়েছেন ফরিদা পারভীন। তবে নিজের জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল সময় মানে শৈশবকাল তিনি কাটিয়েছেন মাগুরায়।

মাগুরা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলেন তিনি। দুরন্ত শৈশবের নানা আজো তাকে শৈশবের দিনগুলোতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। আর এসবের মধ্যে ঢুকে পড়েন ওস্তাদ অমল চক্রবর্তী। যিনি তাকে কন্যা স্নেহে হারমোনিয়ামের সারগম শিখিয়েছিলেন। জানিয়েছিলেন নানা তাল, লয় সম্পর্কে।

আজকের বিখ্যাত ছাত্রী নিজের সেই সময়ের শিক্ষকের কথা মনে করে এখনো আপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি আনমনে, পরম ভালোবাসা নিয়ে বলতে থাকেন, “তার মতো গুরু এখন পাওয়া যায় কী-না, আমি জানি না। আমার সেই খুব অল্প বয়সে তিনি আমাকে নিজের হাঁটুর ওপর বসিয়ে চুল বেঁধে দিতেন।” তিনি আরো জানান যে, “আমি হারমোনিয়ামের নাগাল পেতাম না। তার কোলের উপর বসে আমাকে হারমোনিয়াম বাজাতে হতো।”

নিজের লেখাপড়া বাবার কর্মস্থল মাগুরাতে শুরু করলেও নানা সময়ে তিনি নানা স্কুলে পড়েছেন। তবে তিনি এস.এস.সি. পাশ করেছেন কুষ্টিয়ার মীর মোশাররফ হোসেন বালিকা বিদ্যালয় থেকে। আর তিনি এইচ.এস.সি পাশ করেছেন ’৭৪ সালে কুষ্টিয়া গার্লস কলেজ থেকে। আর একই কলেজ থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ’৭৯ সালে অনার্স করেন ফরিদা পারভীন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ঢাকা চলে আসেন ফরিদা পারভীন। তারপর চলে লালন গীতিকে নিবিড়ভাবে গ্রহণ করার জন্য একাগ্র সাধনা। আর বাংলাদেশের এই শ্রেষ্ঠ লালন শিল্পীর আজকের হয়ে ওঠার পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছেন গুরু মোকছেদ সাঁই।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

April ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Mar    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

April ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Mar    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
%d bloggers like this: